Sunday, 9 January 2022

নদী বাঁধ ও শেষ বিকেল

শেষ বিকেলের আলো মেখে 
দাঁড়িয়ে আছে আর মাত্র কয়েক টা।
 পাশেই অজয়। তার নদী বাঁধ। 
 বন্যার জল আটকানোর জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়েছে শতবর্ষের ও আগে। সেই ১৮০০ শেষ দিকে। 
 পরিকল্পনা মাফিক লাগানো হয়েছিল এই সব গাছ। বিশাল বিশাল শিমূল ছিল তার অলংকার। 
 আরও কত গাছ। অর্জুন ; যজ্ঞডুমুর ; বাবলা ; কুল 
 পলাশ ; জিয়ল ; বেল ; তাল ; খেল কদম ইত্যাদি 
 ১৯৭৮ এর বন্যায় বাঁধ ভেঙে কত যে উপড়ে গেছে। সাতকাহনিয়া গ্রাম থেকে বাঁধ শুরুর মুখে ই 
 এই তালের সারি। ভাগ্যিস এই কটা আর আছে। 
 একদিন এই গাঁয়ের পুকুর পাড় ভর্তি ছিল তাল সারিতে। এমন যে জলে বা মাটিতে রোদ পড়তনা। 
মাটিতে পড়ে থাকত পাকা তাল। পাকা তালের গন্ধে ম ম করত গোটা গাঁ। আবার সেই তাল ই ছিল 
 গরীবের পেট ভরাবার উপায়। দুটি মুড়ি আর তালের মাড়ি আর সামান্য গুড়। মুড়ি আর গুড় জোটানো খুব সহজ ছিলনা। হালদার বাবুদের গুড় ঘর থেকে নালিপথ দিয়ে গুড়ের মাউত বেরিয়ে আসত। তালপাতার ঠোঙা য় তা ধরে নিয়ে যেত কত জনে। আজ আর পুকুর পাড়ে একটা ও তাল গাছ নেই। হালদার বাবুদের গুড় ঘরে আর গূড় থাকেনা। পোড়ো সে দালান বাড়ি। আখ চাষ কবেই উঠে গেছে। গুড়ের শালও  বসেনা সে কতদিন। 

 অথচ একদিন তিন চার জায়গায় গুড়ের শাল বসত।আমোদিত গোটা গাঁ ফুটন্ত গুড়ের গন্ধে। 
 এই তাল গাছ গুলো কে দেখি আর ভাবি ভাগ্যিস 
 আছে। মনে মনে বলি ' থাকিস যেন '। আবার ভাবি থাকা কি ওদের হাতে। এত লোভী নিষ্ঠুর হাত চারপাশে নিশপিশ করছে। কি জানি কি হয়। 
 কেউ তো নাই দেখবার বা বলবার। 
 যদি থেকে যায় 
 হয়তো পরে কোন বালক বা বালিকা  এদের দেখে তালগাছ চিনবে।
 তারা কি  পড়বে - 
 ' তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে 
  সব গাছ ছাড়িয়ে 
   উঁকি মারে আকাশে '

Saturday, 8 January 2022

তেপান্তর নাট্য গ্রাম

#বাংলার_একমাত্র_নাট্য_গ্রাম "তেপান্তর" (গড় জঙ্গল, কাঁকসা)
---বিশ্বনাথ মিত্র

আপনারা অনেকেই হয়তো তেপান্তর নাট্য গ্রাম বা তেপান্তর থিয়েটার ভিলেজ এর নাম শুনে থাকবেন । কয়েকদিন আগে পর্যন্ত আমি এদের বিষয়ে জানতে পারতাম না যদি না গবেষক এবং প্রাবন্ধিক Pranab Bhattacharyya এর সঙ্গে আলাপ না হত । সদ্য ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরে সেখানে পৌষ মেলায় তিনি সাদরে আমন্ত্রিত জানালেও বিশেষ কারণ হেতু যেতে পারিনি । কিন্তু পেয়েছি অনুষ্ঠানের সুন্দর সুন্দর ছবি ও বর্ণনা । এই দু'দিন অতিথিরা এসেছেন, থেকেছেন এবং  নিজেদের মতো করে সময় কাটিয়েছেন । বাউল গান, আদিবাসী নাচ বা নাটকের অংশ বিশেষ  অভিনয় করে তাঁদের দেখানো হয়েছে। ছিল হস্তশিল্পের স্টলে, খাবার স্টল । সব গ্রামবাসীরাই করেছেন ।

বাংলার বাইরে এই রকম নাট্য গ্রাম থাকলেও সমগ্র বঙ্গদেশে এইরকম গ্রাম আর দেখা যাবে না #কিন্তু_কী_এই_নাট্য_গ্রাম ? সবুজ বৃক্ষ রঙ বাহারি ফুল কিংবা মেঠো রাস্তাপথে ধান, পুকুর, চালের ঘর এইসবের সমন্বয়ে সাতকাহানিয়া নামে একটি গ্রামের ভিতর গ্রামবাসীরা একসঙ্গে থাকেন, একসঙ্গে নাটক করেন এবং একসঙ্গে  তাঁদের রোজগার করা । অনন্য এক বাংলার ঐতিহ্য ।
#নাট্যকর্মী_কল্লোল_ভট্টাচার্য (প্রণববাবুর পুত্র) ১৯৯৪ সালে এই সাতকাহানিয়ায় খোলা আকাশের নীচে হ্যারিকেনের আলোয় অল্টারনেটিভ লিভিং থিয়েটার এর পরিচালক প্রবীর গুহ'র ওয়ার্কশপ থেকে উৎসাহীত হয়ে, অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের এলাকায় নিজেদের মতো করে প্রায় ৩০ জন মিলে একটি নাট্যদল গড়ে থিয়েটার চর্চা শুরু করেন শহর ছেড়ে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে । ১৯৯৯ থেকে প্রায় ৪ একর জমির ওপর তা পুরোদমে একটি নাট্য আন্দোলনের সূচনা হয় । ক্রমশ কেটে গেছে ২৭ বছর। এই ২৭ বছরে তাঁরা কাজ করেছেন দেশের সেরা থিয়েটার এর মানুষদের সাথে। কে.এন. পানিককর, এস রামানুজম, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বি জয়শ্রী, শমীক বন্দোপাধ্যায়, চন্দ্রদশন সহ স্যার রতন থিয়াম এবং অনেকের সাথে ।
এই ২৭ বছরে কল্লোলবাবুরা ভারত রঙ্গ মহোৎসব, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল অফ কেরল সহ দেশের প্রায় সব সেরা থিয়েটার ফেস্টিভ্যালগুলিতে নাট্য-সকল মঞ্চস্থ করেছেন তাঁরা । বহু দেশ বিদেশ থেকেও নানা নাট্য দল এখানে প্রায়শ নাটক বা থিয়েটার মঞ্চস্থ করে থাকে । 
 ২৫০ দর্শক আসন বিশিষ্ট ব্ল্যাক বক্স থিয়েটার, একটি ওপেন এয়ার থিয়েটার, একটি ইন্টিমেট স্পেস, কয়েকটি প্রাকৃতিক মঞ্চ, একসাথে ১২০ জন থাকার মতো কটেজ, ডরমিটরী গড়ে তুলেছেন এর ভিতর । এছাড়াও এখানে রয়েছে পোল্ট্রি, আমের বাগান, পুকুর, মাঠ ইত্যাদি। গত বারো বছর ধরে এখানে শীতের সময় নাট্য উৎসব, দোলের সময় তেপান্তর মেলা হয় ।এছাড়াও এখানে সারা বছর ধরে নানা কর্মশালা, ট্রেনিং, নানা ধরনের থিয়েটার, নানা পারফরম্যান্স এর আয়োজন করে চলেছেন । এখানে সারা দেশের প্রায় সকল পরিচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব রাই এসেছেন। কাজ করেছেন। কাজ দেখিয়েছেন। 
বর্তমানে তেপান্তরে প্রায় ২০-২৫ জন সক্রিয় কর্মী আছে । যাদের ভিতর আবার অনেকে কৃষক পরিবারের সন্তান । পাশাপাশি এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় সবাই নাট্যকর্মী । এদের সংসারে নিত্য অর্থাভাব থাকলেও নাটকই তাদের জীবন। বেঁচে থাকার তাগিদে থিয়েটার ভিলেজের ফার্মের নিয়ন্ত্রণাধীন পোলট্রি, মাছ চাষ বা ফলের বাগানে তারা কাজ করে । বাকি সময় নাটকের অনুশীলন, প্রশিক্ষণ আর অভিনয় ।  পর্যটকদেরও আকর্ষণ জাগায় এই সব মুরগির ফার্ম বা ফুল ফলের চাষ ।
তাঁরা আরও এগিয়ে যেতে চান । শুধু চায় আপনাদের শুভেচ্ছা এবং প্রেরণা ।

তথ্য ঋণ :
প্রণব ভট্টাচাৰ্য
কল্লোল ভট্টাচাৰ্য

তেপান্তর নাট্য গ্রাম

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2577413879056481&id=100003636821328

সিউড়ি। রঘুনাথ মন্দির।

আজ সারাদিন কাটল বীরভূমের সদর শহর 
সিউড়ি তে। আজ ২৭/১১/২১। বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সভা কক্ষে। 
রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। 
উপলক্ষ  " বীরভূম আর্টিশানি "। 
তাদের গালা এবং বাটিক কর্মশালা। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভা। 
 সঠিক ভাবেই " বীরভূম আর্টিশানি " আজকের দিনটি বেছেছিল। সচেতন ভাবেই। 
 আমার বলার বিষয় অবশ্য  গালা শিল্পের অতীত ঐতিহ্য এবং ইলামবাজার। 
 প্রশিক্ষক সুরুলের ইউসুফ ভাই। 
দুপুর বেলায় হাতে সময় ছিল। আমি কি আর খুঁজে পাব  ৪৫ বছর আগের  আমাদের সেই সিউড়ি কে! 
 তবু টোটো নিলাম। দুই ভদ্রলোক যথেষ্ট সাহায্য করলেন। তা না হলে টোটো র ছেলেটি খুঁজেই পেতনা। যাই হোক শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ালাম 
 আমার সেই অতীত বেলায় দেখা সেই মন্দিরের সামনে। অনেক ক্ষণ ধরে দেখলাম। 
 গেট তো বন্ধ ছিল। কি করি। 
 আর এক ভদ্রলোক সাহায্য করলেন। তাঁর কাছে চাবি ছিল। সব শুনে খুলে দিলেন। 
 সোনাতোড় পাড়া যথেষ্ট পুরনো। 
 সে পুরনো সিউড়ির গল্প যদি শুনতে চান বলব পরে। সোনাতোড় পাড়ার এই মন্দির টির কাজ দেখুন আজ শুধু

Wednesday, 5 January 2022

সিঁড়ি তুই অঙ্ক জানিস

সিঁড়ি তুই অঙ্ক জানিস 
 ঐ যে সেই ছোট বেলায় 
 অঙ্ক করতে হত 
 সিঁড়ি ভাঙ্গা সরল 

আমার মা না কি 
 বলতো 
 সরল নয়
গরল 

 রোগ শয্যা থেকেই সে আবার 
 গরল কে সরল করে দিতে পারত

 অঙ্কে গাঁথা সিঁড়ি রে

 তুই এক অবাক চোখের 
 বালক কে দেখেছিস

ছবি তুমি কথা বল

ঢুকবেন
ভিতরে 
উঠে গেছে সিঁড়ি 
 দোতালায় 
 নেমে গেছে নীচে 
 গোপন সুড়ঙ্গ 
   
 গুপ্ত কক্ষে 
 
আর কদিন পরেই 
 দেয়াল ভাঙ্গা হবে 

এই তার শেষ ছবি
 ছবি তুমি ই কথা 
 বল

ইলামবাজার। পাল পরিবারের দুর্গাদালান

একদিন ছিল। বিশাল সে দুর্গাদালান। স্তম্ভে খিলানে তার রাজকীয় ঐশ্বর্য।   ছিল অপূর্ব ভিতর বারান্দা। বিরাট বাহির বারান্দা। তারপর তার সু-উচ্চ প্রবেশ দ্বার। ভিতরে হাতি ঢুকতে পারে এমনই তার উচ্চতা বা প্রস্থ। এবং তার কারুকার্য। 
 ইলামবাজার সে এক প্রাচীন জনপদ। 
 গঞ্জ ইলামবাজার। ' এলেম বাজার '। যে বাজারের ' এলেম' আছে  - অর্থাৎ দাম আছে। আবার ' নীলাম বাজার '। কত ব্যবসায়ী পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। কোন কোন পরিবার প্রায় ছয় - সাতশো বছর আগে ও এসেছেন। 
 আজ বসেছিলাম সুখ্যাত ' দত্ত ' ( দালাল)  পরিবারের মাননীয় শ্রী গুরুদাস দত্ত মশাই এর সাথে। অনেক কথা হল। বয়স এখন তাঁর ৯০ +।
 হয়তো বা প্রবীণতম মানুষ ইলামবাজারের। 
 এই দত্ত পরিবার এর কথা পরে আলাদা ভাবে বলতে হবে। ইলামবাজারের প্রাচীন ইতিহাস এর কথা বলার লোক আর তেমন নাই। 
 ব্যবসায়ী পাল পরিবারের এই দুর্গা দালানের কথা 
 ওঁর কাছ থেকে ই শুনলাম। সম্ভবত প্রাচীণতম দুর্গাদালান। অন্যান্য অনেকগুলি কে মাথায় রেখেই 
 বলছি। আরও মেলাতে হবে। 
 আমার সাথে ছিল ইলামবাজারের সুখ্যাত গৃহ শিক্ষক শ্রী সুবল কর্মকার। 
 ইলামবাজার আমাদের অনেকের ই প্রায় দ্বিতীয় ঘরের মতো। আমি প্রায়ই বলি আমাদের একপা অজয়ের এপারে আর এক পা ওপারে। 
 প্রতিদিনের  পারাপার। 
 ইলামবাজার দেবীপুর পায়ের গঙ্গাপুর বারুইপুর ভগবতী বাজার ; শুকবাজার খয়েরবুনি নবগ্রাম এই সকল 
 গ্রামকে নিয়ে আজকের যে বৃহত্তর ইলামবাজার 
 তার এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা র চেষ্টা করে যাচ্ছি। নানা সময়ে এখানে বা মুদ্রন মাধ্যমে ইলামবাজার সম্পর্কে নানা  প্রবন্ধ লিখেছি। এখানে 
 ফেসবুকে র পাতায় আমার অনেক পোষ্ট। 
 শুধু টেরাকোটা র কাজের অনবদ্য উদাহরণ স্বরূপ   
 এখানের 
 তিনটি মন্দির নিয়েই আমার অনেক পোষ্ট। এছাড়াও আছে। দেবীপুর ; শুকবাজার ; ঘুড়িষা ; জয়দেব কেন্দুলী  ; ঊষার ডিহি ; দেউলী; ধল্লা  প্রভৃতি 
 জায়গার সম্বন্ধে নানা পোষ্ট। 
 কিন্তু প্রাচীণ জনপদ  ইলামবাজারের যে অনেক কথা।   আজকের ইলামবাজার - সে তো আকৃতি তে  মিউনিসিপ্যাল এলাকার মতোই। সেই মর্যাদা তার পাওয়া উচিৎ। যে ভাবে " বীরভূমের প্রবেশ দ্বার " শুধু নয় বরং বলা ভালো " উত্তরে র দুয়ার "
 এই ইলামবাজার বেড়েই  চলেছে।  মিউনিসিপাল মর্যাদা না পেলে  মানুষ কে নাগরিক সুবিধা দেওয়া 
 গ্রামপঞ্চায়েতের পক্ষে সম্ভব নয়। 
 যাই হোক নিশ্চয়ই এসব বিষয় উপযুক্ত স্তরে আলোচিত হচ্ছে। আমার আলোচনা র বিষয় নয় তবু এ কথা বলতেই হয়। নানা প্রবন্ধে বলেছি।
আমার একান্ত ইচ্ছা ইলামবাজারের এই গড়ে  ওঠার একটা আনুপূর্বিক ইতিহাস লেখা। 
 আমার এই কাজে অনেকের সহযোগিতা দরকার। 
 বন্ধুরা যদি সহযোগিতা করেন -।
 আপনারা জানেন আমি ক্ষেত্র সমীক্ষা ভিত্তিক কাজ করি। এবং তা করতে হলে পরিশ্রম ; খরচ 
 সবই আছে। ইলামবাজার ব্লক প্রশাসন কি আমাকে একটু সাহায্য করবেন। 
অনেক ছাত্র রা রয়েছো। তোমরা আমাকে ভালোবাস তাও জানি। তার বহিঃপ্রকাশ এখনও অনুভব করি। শিক্ষক হিসাবে এ পাওয়া যে কত বড় পাওয়া! তোমরা অনেকে রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় এবং প্রভাব আছে। তোমরা একটু দেখো। 
 ইলামবাজার এর কাছে অনেক ঋণ গো। আবার 
 জমে আছে ভিতরে অনেক অভিমান। 
 সকলের সাহায্যে যদি আরব্ধ কাজ টা করতে পারি! 
 সকল কে অনুরোধ জানালাম।
আর একটা কথা ইলামবাজারের বন্ধুদের কাছে 
 যদি মনে হয় এই পোষ্ট টা উপযোগী - তাহলে শেয়ার করুন। ইলামবাজারের অন্যান্য বন্ধুরা জানুক। হয়তো অনেকে পড়েন কিন্তু কোন রেসপন্স না পেলে কি ভালো লাগে।