Saturday, 1 March 2025

বীরভূম ঃ ধর্মসাধনার জাদুঘর। বৈচিত্র্যময় মন্দির রাজি

বীরভূম কে বলা হয় ' ধর্মসাধনার জাদুঘর "। নানা ধর্মীয় আন্দোলনের স্রোত বীরভূমের উপর দিয়ে বয়ে গেছে।  
 তৈরি হয়েছে নানা মন্দির মসজিদ। 
 সমগ্র রাঢ়বঙ্গ তো দূর গোটা বীরভূম কে আলোচনায় ধরা সম্ভব নয়। সংক্ষিপ্ত এক রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। 
 জৈন ধর্ম বীরভূমের উপর নেমে এসেছে। কোন জৈন মন্দির এখানে যদিও নাই কিন্তু ছিল। ঘুড়িষা গ্রামে জৈন তীর্থঙ্কর সর্পছত্রধারী পার্শ্বনাথ জীর মূর্তি পথের ধারে পড়ে আছে। 
 গ্রামে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা নানা জৈন মূর্তি ছোট বেলায় দেখেছি। ভগ্ন। ভাঙ্গা যে হয়েছে কঠিন আঘাতে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। 
 জাতক কাহিনীতে সত্যতা যদি কিছু মাত্র থাকে তাহলে বলা যায় বুদ্ধদেব বীরভূমের উপর দিয়ে হেঁটে পুণ্ড্রবর্ধনে গিয়েছিলেন। ইলামবাজার নিকট বর্তী দেবীপুর গ্রামে 
 দেবী সুহ্মেশ্বরী র ভগ্ন মূর্তির পাদদেশে খোদিত ছিল 
 " যে ধর্মের  হেতু হইতে উৎপত্তি, ------------  " যে ধর্ম্মা  হেতু 
 প্রভবা হেতুং তেষাং তথাগতহ্যবদৎ। তেষাঞ্চ যো নিরোধঃ
এবং বাদি মহাশ্রমণঃ " 
এখানের ধর্মরাজের নাম " সুহ্মরায় "। সুহ্ম অতি প্রাচীণ শব্দ। 
 রাঢ়দেশের প্রাচীণ নাম ই " সুহ্ম "। মহাভারতের টীকাকার নীলকন্ঠ বলেছেন " সুহ্মঃ  রাঢ়া " 

 তাছাড়া ' বুদ্ধরায় ' বা বুধোরায় বা বুদ্ধেশ্বর শিবের নামে বেঁচে আছে বুদ্ধের স্মৃতি। কোন বৌদ্ধ স্তুপ বা মন্দিরের নিদর্শন নাই। 
 হয়তো ছিল। বা হয়ত এখনও মাটির নীচে। 
 বাঙ্গলার ইতিহাস তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাটির নীচে ই। 
------------ ------------ ------------ ------------ ------------ 

 বৈচিত্রময় বীরভূম ঃ  বৈচিত্র্য এর ভূ প্রকৃতি তে। মাটিই তো কথা বলে। মানুষের রক্তে। তার শরীরে, মনে। 
 বিচিত্র এই বীরভূম। মননের বৈচিত্র্য। সেই বৈচিত্র্য থেকেই 
 মন্দির স্থাপত্য রীতি র এত বিচিত্রতা বীরভূম ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না। বীরভূম কে বলা হয় " ধর্মসাধনার জাদুঘর "। নানা ধর্মীয় আন্দোলনের স্রোত বয়ে গেছে বীরভূমের উপর দিয়ে। 
জৈন, সহজিয়া বৌদ্ধ, শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণবীয় এবং ইসলাম। সুফীবাদের প্রভাব। নানা ধর্মীয় স্রোত। মানুষের মনোজগতে এর সুগভীর প্রভাব আছে। 
 চালা, রত্ন, শিখর, দেউল সহ ভিত্তিভূমি থেকে কৌণিক ভাবে 
 উপরে উঠে যাওয়া রীতি  সহ নানা রীতির সমাবেশ বীরভূমে। 
 প্রস্তর নির্মিত, ল্যাটেরাইট বোল্ডার ( কামানো পাথর ও বলা হয়) । ছাড়া বাকী সব মন্দির ই ইঁটের তৈরী। নিকট বর্তী 
ছোট নাগপুর মালভূমি থেকে পাথর এনে তাকে নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য যে অর্থ বিনিয়োগ দরকার তা এখানে খুব কমই হয়েছে। স্থানীয় ভূস্বামী বা ধনী ব্যবসায়ী বা রাজকর্মচারী রাই বা পণ্ডিত রা 
মন্দির গুলি নির্মান করিয়েছিলেন। 

বীরভূমের মন্দির স্থাপত্য এবং তার অলংকরণ বাঙ্গলার মন্দির স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। 
বাঙ্গলার সমাজ বিবর্তনের ও বাঙালির মনস্বিতার ও ভাবপ্রবনতা র চিত্র এই মন্দির ভাস্কর্যের মধ্যে প্রতিফলিত। 
মঙ্গলকাব্য সমূহের সমাজ চিত্রণের কথাকে মাথায় রেখেও বলতে হচ্ছে " পটভূমির প্রসারে, কল্পনার বিস্তারে, এবং শিল্প সৃষ্টির দক্ষতায় বাঙ্গলার মন্দির শিল্পকে সমসাময়িক যুগের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম দলিল বলে অভিহিত করা চলে। "
 " বাঙ্গলার মন্দির বাঙ্গালীর জাতীয় তীর্থ। "
বাঙ্গালী র আন্তরহৃদয়ের পরিচয় দিতে, তার স্পর্শশীলতার, তার আনন্দ বেদনার এবং সর্বোপরি তার আধাত্মিক অনুভূতির ইঙ্গিতে বাংলার দেবদেউল গুলি একান্তই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। " ( কল্যাণ কুমার গাঙ্গুলি)  
  
প্রস্তর নির্মিত দেউল ঃ রসা বড়রা,  কবিলাসপুর, পাঁচড়া, মহুলা, রসা, পারশুণ্ডি । নাগর রীতি র 
 ল্যাটেরাইট বোল্ডার নির্মিত, ভিত্তি  ঃ দুবরাজপুর, মল্লারপুর, বক্রেশ্বর  ইত্যাদি। এখন সিমেন্ট প্লাষ্টার পড়ায় আর ঠিক বোঝা যায়না। 
 কোথাও ভিত্তি  ল্যাটেরাইটের,  উপরিভাগ ইঁটের। চূণ সুরকির গাঁথনি। এবং চূনের প্লাষ্টার।।
রসার প্রস্তর নির্মিত দেউল খুবই বিখ্যাত। সংস্কার হয়েছে। কিন্তু আমলকের কাজ করা যায়নি। 
শৈব এবং শাক্ত সাধনার স্থল। এখানের বিশাল বটবৃক্ষের বাহু বন্ধনে রয়েছে আরও কয়েকটি ছোট মন্দিরের ধংসাবশে্ষ। শোনা যায় বর্ধমানের সর্পি গ্রামের জমিদার অর্জুন রায় চৌধুরী এই মন্দির গুলির নির্মাতা। 
 উচ্চতার দিক দিয়ে ঃ ভাণ্ডীরবন। ( এখানে বিতর্ক আছে 
 পুরাতত্ত্ব বিভাগ বলেছেন প্রস্তর নির্মিত কিন্তু অন্য বিশেষজ্ঞ রা ম্যাককাচ্চন সাহেব সহ বলেছেন ইঁট নির্মিত) 
 প্রাচীন মন্দিরের ভিতের উপরে দেওয়ান রামনাথ ভাদুড়ি কর্তৃক নির্মিত। সংস্কারে সংস্কারে মূল চেহারায় পরিবর্তন যা আসা স্বাভাবিক তাই হয়েছে। 
 ১৭৫৪ খ্রীস্টাব্দে নির্মিত। প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চ। 
* কলেশ্বর।  ঢেকার রামজীবন রায় কর্তৃক নির্মিত শিবমন্দির। 
* ডাবুক। ডাবুকেশ্বর শিবমন্দির। সর্বোচ্চ শিখর দেউল।
** অসামান্য ফুলপাথরের অলংকরণ সমন্বিত। 
গণপুর। গণপুর কে বলা হয় এখানে ফুলপাথরের মহাকাব্য রচিত হয়েছে। অসাধারণ এখানের মন্দিরের কাল। মণ্ডল বাড়ি সহ কালীতলার  মন্দির গুচ্ছ । আসামান্য অলংকৃত এখানের দোলমঞ্চ টি। 
মুলুটি, মাসড়া, গণপুরের মন্দিররের অন্যতম  বৈশিষ্ট্য এখানে চালা রীতি র মন্দিরের আর্চের  উপরে মন্দিরলিপি সমূহ। যা নিয়ে আলাদা কাজ করা যায়। 
** অনুপম ফুলপাথরের অলংকরণ সমন্বিত মন্দিরের অন্যতম সিউড়ি সোনাতোড় পাড়ার চালা রীতি র রঘুনাথ জীর মন্দির। অসামান্য এর অলংকরণ। শোনা যায় এক ঘণশ্যাম দাস বাবাজী ভিক্ষালব্ধ অর্থে এই মন্দির নির্মান করিয়েছিলেন। 
বিগ্রহ হীন। চুরি হয়ে গেছে। 
* দুবরাজপুর এর মন্দির। নায়ক পাড়ার মন্দিরে চমৎকার জ্যামিতিক ডিজাইন এর কাজ আছে। 
এছাড়া ওঝা পাড়ার মন্দিরদুটি র কাজ চমৎকার। 
* হেতমপুর এর চন্দ্রনাথ মন্দির। একটি ব্যতিক্রমী মন্দির। এখানের টেরাকোটা কাজের মাধ্যমে বিদেশি জীবন চিত্রের ছবি আছে। 
*বিশালাকৃতি। নবরত্ন মন্দির। ৮০ ফুট উচ্চ। ২৫ ফুট বর্গের বিশাল মন্দির। সামনের অংশের টেরাকোটার অলংকরণ, মূলতঃ রামায়ণ কাহিনী র 
রাম রাবণ এর যুদ্ধ।বানর সেনাদের ভূমিকা চমৎকার ফুটেছে। এছাড়াও আছে সামাজিক চিত্রন। বর্ধমানের রাজা কীর্তিচাঁদ জননী ব্রজকিশোরী দেবী এই মন্দির নির্মান করিয়েছিলেন 
 জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী - 
* ঘূড়িষা রঘুনাথ জীর মন্দির। ১৬৩৩ সাঃ অব্দে। নির্মিত। জেলার  প্রাচীণতম।! অসাধারণ সুক্ষ্ম এর টেরাকোটা অলংকরণ।স্বর্ণালংকারের সৌন্দর্য এর দেওয়াল জুড়ে। পণ্ডিত রঘুত্তম আচার্য এর নির্মাতা। অতি প্রাচীণ শিলালেখ আছে। 
* ঘুড়িষা বেণেপাড়ার ক্ষেত্রনাথ দত্ত কর্তৃক নির্মিত 
লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির। হাই রিলিফের অতি চমৎকার কাজ এখানে রয়েছে। চৈতন্য লীলা, ত্রিপুরাসুন্দরীর অসাধারণ প্যানেল। মধ্য অষ্টাদশ শতকের নির্মান। 
* ইলামবাজারের তিনটি বিখ্যাত মন্দির। 
অষ্টকোনাকৃতি গৌরাঙ্গ মন্দির। হাটতলায়। আসামান্য এর জ্যামিতিক ডিজাইন। নকল দরজা। 
এবং ফুলপাতার নক্সা। 
* ব্রাহ্মণ পাড়ার  বিষ্ণু দালান। উচ্চ বেদীর উপরে  বৃহদাকৃতির পঞ্চরত্ন মন্দির। অসাধারণ এর টেরাকোটা র কাজ। রাসমণ্ডল, দুর্গাপ্যানেল, চৈতন্য লীলা এর কাজ। হাই রিলিফের কাজ ভাস্কর্যটি দিকে গেছে। ক্ষুদিরাম বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্মাতা। নির্মানকাল মধ্য অষ্টাদশ শতক। 
* রামেশ্বর শিবমন্দির।  রামধন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিবমন্দির। ছোট্ট ফলকে আসামান্য বিভঙ্গে রাধাকৃষ্ণ।হাইরিলিফে জগদ্ধাত্রী এবং দুর্গামূর্তি এর অন্যতম প্রধান কাজ। 
* সুরুলের মন্দির। জমিদার সরকার বাড়ির ছোট তরফের শিবমন্দির এর টেরাকোটা অলংকরণ ছিল অসাধারণ। যথাযথ ভাবেই সংস্কার হয়েছে। 
* সুপুরের জোড়া মন্দির।  অষ্টকোনাকৃতি মন্দির এবং দেউল রীতি র মন্দির এবং তার টেরাকোটার কাজ চমৎকার। 
* বীরভূমের অন্যতম জোড়বাংলো মন্দির রীতি র মন্দির রয়েছে ইটাণ্ডা য়। এই মন্দির এবং সাধুখান পাড়ার শিবমন্দিরের টেরাকোটা কাজ দৃষ্টি নন্দন। 

**
ঘুড়িষা রঘুনাথ জী র মন্দির। জেলার প্রাচীণতম মন্দির বলে কথিত। এটির স্থাপনাকাল ১৫৫৫ শকাব্দ। ১৬৩৩ খ্রীস্টাব্দে। অসামান্য এর টেরাকোটা অলংকরণ। 
কিন্তু রামপুরহাট থানা অন্তর্গত  মাসড়া গ্রামের শিবমন্দির টি ১৫৩৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১৬৩১ খ্রীস্টাব্দে নির্মিত। 
মাসড়া তখন মুলুটির রাজাদের অধীনস্থ। 
মন্দির টি ' রাজলোহাপাল ' সিতবদাস তাঁর মা সিদ্ধেশ্বরী র নামে প্রতিষ্ঠা করেন। 
 এই মন্দিরের অলংকরণ ছিল ফুলপাথরের। 
 সংস্কারের নামে সিন্থেটিক রঙের প্রলেপে ঢেকে গেছে প্রাচীণ কারুকার্যের সৌন্দর্য। 
 এই মন্দিরের প্রাচীণ প্রতিষ্ঠা লিপি টি এইরূপ - 
 শ্রী শ্রী রামাই ১৫৫৩ সেবক রাজলোহাপাল। ৪২৩ ××× সিতবদাস কর্মকারের মাতা শ্রী মতী সিদ্ধর শ্রী ঈশ্বর শিব স্থাপনাকারি ×××   ×××  
 মুলুটি নিকট বর্তী এই মাসড়া গ্রাম ছিল লোহা কেনাবেচা র এক কেন্দ্র। প্রাচীণ পদ্ধতিতে লোহা গলানো হত। কর্মকার রা প্রভূত ধনী হয়ে উঠেছিলেন। 
 পরবর্তী তে এই সকল এলাকা ' লোহামহল ' নামে  ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর ইজারার মধ্যে আসে। 
 গ্রামে ঝামার স্তুপে এখনও অনেক লোহামল বা slag পাওয়া যায়। 
 মাসড়া গ্রামের এই ছোট্ট শিবমন্দির টি প্রতিষ্ঠাকালীন হিসাব অনুযায়ী বীরভূম জেলার প্রাচীন তম মন্দির। 
------------ ------------ ------------ ------------ ------------ 
অনেক বন্ধুর সেদিনের আমার কথিকা,আকাশবাণী  শান্তিনিকেতনে শোনা হয়নি। 
অনেকে শুনেছেন। 
সঞ্চালক ছিলেন কমলেশ্বর চট্টোপাধ্যায় 
তাঁদের জন্যই এই লেখা। মোটামুটি এই লেখার ভিত্তিতে।

গোপভূম কথা।। কাঁ কসা রাজবংশ

গোপভূম কথা ও কাহিনী।।
কাঁকসা রাজবংশ -
এই বংশের আদিপুরুষ  রাজপুতনা থেকে আগত শিবভক্ত
কঙ্কসেন রায় বা রাও। তাঁর পুত্র কনকসেন। ঐ পুত্র প্রতাপাদিত্য। প্রতাপাদিত্য র সাত পুত্র। তিনজনের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা  যথাক্রমে  ভবাণিপতি ; পৃত্থ্বীধর ; শত্রুভাল।
ভবাণীপতির পুত্র সুরেন্দ্রনাথ রায়।

পৃত্থ্বীধরের সাত পুত্র। অন্যতম পরমানন্দ রায়।
কাঁকসা রাজবংশ বহিঃশত্রুর, সম্ভবত সৈয়দ মহম্মদ বুখারীর হাতে পরাজিত এবং বিনষ্ট হয়।
বংশের বিভিন্ন শাখা নানা দিকে ছড়িয়ে পড়েন।
রাজকুসুম নিকটবর্তী জঙ্গলের মধ্যে যে গড় ছিল যার নাম উৎগড়। সেখানে এক পরিবার বাস করতেন। এই জঙ্গলে আক্রমণ কারী দের দ্বারা উপুর্যুপরি
সাতজন নিহত হয়েছিলেন।  তাই জঙ্গলে র এই অংশের নাম " সাতকাটা জঙ্গল "।
পৃত্থ্বীধরের সাত পুত্র ই পরমানন্দ সহ দেরিয়াপুর
গ্রামে তাঁদের বসতি স্থাপন করেন।
এই পরমানন্দ রায় ; বর্ধমানের রাজা দের এক দেওয়ান ছিলেন। তিনি তাঁর কর্মদক্ষতা র জন্য
পত্তনিদারী লাভ করে  মৌখিরা কালিকাপুর এর জমিদারি পত্তন করেন। পরে ইংরেজ দের সাথে নীলের ব্যবসা এবং অপর শাখা কয়লা র ব্যবসায় প্রভূত ধন অর্জন করেছিলেন।
পরমানন্দ তাঁর পুত্রের নামে মৌখিরা থেকে দক্ষিণের জঙ্গল লাগোয়া উচ্চ ভূমির উপরে
কালিকাপুর এর দুর্গাদালান সমন্বিত  সাতমহলা প্রাসাদ সহ ; দিঘি খণন ; শিবমন্দির নির্মান করান।
বিখ্যাত কালুঘোষের সাত পুত্রের এক পুত্রের কন্যা  শৈব্যা। শৈব্যাকে সম্প্রদান করা হয় রাজা ভল্লুপাদ কে। এঁরা দেরীপুর গ্রামে বসবাস করতেন। শৈব্যার পিতা পরবর্তী সময়ে বৈদ্যনাথ ধাম গিয়ে সেখানে নিজ রাজত্ব তৈরী করেন।
শৈব্যার বংশধরেরা " রায় " পদবী লাভ করেন।
এঁরা সৎমৌলিক হিসাবেই পরিচিত।
কালিকাপুর মৌখিরা র জমিদার বংশের ক্ষয়িষ্ণু উত্তরাধিকারী গণ " রায় " পদবী ই ব্যবহার করেন।
কালিকাপুর মৌখিরা র জন্য প্রসঙ্গ আলাদা প্রবন্ধ দাবী করে। মন্দির এবং প্রাসাদ ময় এমন
যুগ্ম গ্রাম ' হেরিটেজ ভিলেজ " এর মর্যাদার দাবী
রাখে। 
কাঁকসায় কাঁকসা রাজবংশের কোন নির্মানের অবশেষ নাই। কঙ্কেশ্বর শিব মন্দির আছে। মজে যাওয়া, প্রায় পরিত্যক্ত জীবিত কুণ্ড আছে।
সৈয়দ বুখারী , যাঁর দ্বারা কাঁকসা রাজবংশ আক্রান্ত হয়। তাঁর সমাধি আছে কাঁকসার প্রয়াগপুরে।
দিঘি ছাড়া ভালকি তে ও কোন নির্মানের অবশেষ নাই। অমরারগড় থেকে মানকর পর্যন্ত রয়েছে অনেক গুলি জলাশয়।
অমরারগড়ের উত্তরে পরিখা প্রাচীর এর ভগ্নাবশেষ প্রাচীণেরা দেখেছেন। আজ আর কিছু নাই। আছেন দেবী শিবাক্ষ্যা। আর আছে ঘোষ পরিবারের  প্রাচীর বেষ্টিত মন্দির রাজি।
কাঁকসা রাজবংশ ধ্বংস হবার পর নানা দিকে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন বিভিন্ন শাখার বংশধরেরা।
বর্তমান প্রজন্ম তাঁদের পূর্বপুরুষ দের নাম ই জানেন না। ইতিহাস তো দূরের কথা।
কেউ কেউ এখন নিজেদের ইতিহাস খোঁজ করছেন। কিন্তু একজন ক্ষেত্রসমীক্ষক হিসাবে দেখেছি উপাদানের অভাব প্রকট।
নিজেদের ঠিকুজি কুলজী ও নাই।
কালিকাপুর মৌখিরা সাক্ষ্য দিচ্ছে অতীত গৌরব
কে। কিন্তু সেখানেও সেই একই সমস্যা।
নাই বংশ লতিকা। নাই প্রাচীণ কোন দলিল।
আনুঃ দুশো বছর আগের ইতিহাস। কেননা মৌখিরা গ্রামের প্রথম শিবমন্দির টি ১২০০ বঙ্গাব্দ নাগাদ নির্মিত হয়। পরবর্তী সময়ে নানা বিধ নির্মান হয়েছে। প্রাসাদ, মন্দির,  জলাশয়,
বাগানবাড়ি ' চাঁদনী ' প্রভৃতি।

অর্থাৎ কাঁকসা রাজবংশের সাথে একটা সম্পর্ক থেকে যাচ্ছে এই জমিদার বংশের।
কাঁকসা রাজবংশের সাথে জড়িত রা কোঙার বা কুমার, এবং রায় পদবী ব্যবহার করেন।
বিনয় ঘোষ বলেছেন " গোপভূম এর সদগোপ রাজবংশের ইতিহাস রাঢ়ের এক গৌরব ময় যুগের ইতিহাস। আজও সেই অতীতের স্মৃতি চিহ্ন
ভালকী, অমরারগড়, কাঁকসা, গৌরাঙ্গপুর প্রভৃতি অঞ্চলে রয়েছে। বাংলার সংস্কৃতির ইতিহাসে
সদগোপ দের দানের গুরুত্ব নির্ণয় করা হয়নি। "
" অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে গোপভূমে যে সদগোপ রাজা রাজত্ব করছিলেন তাঁর নাম শতক্রতু।
১৭১৮ সাল নাগাদ তিনি মারা গেলে তাঁর পুত্র মহেন্দ্র রাজা হন। মহেন্দ্র নিজ রাজ্য বহু দূর প্রসারিত করে ছিলেন। নবদ্বীপাধিপতি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবন চরিতে রাজা মহেন্দ্রর কথা
বিস্তৃত ভাবে লেখা আছে। যখন জগৎ শেঠের
বাড়িতে বাঙ্গলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে সভা আহুত হয়, তখন রাজা মহেন্দ্র একজন
প্রধান উদ্যোগী ছিলেন। নবাবের বিপক্ষে, বিরোধী হবার জন্য তাঁর রাজ্য বর্ধমানের রাজা কর্তৃক আক্রান্ত হয় এবং তিনি পরাজিত হন "।
কুলজি গ্রন্থে র ঐতিহাসিকতায় অনেকে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেননা। জনশ্রুতি ও তাই।
তবু যেখানে ঐতিহাসিক উপাদানের অভাব সেখানে  জনশ্রুতি কে কিছু মূল্য দিতেই হয়।
" ন্যাহ্যমূল্যা জনশ্রুতি "। ইতিহাস লুকিয়ে থাকে তারই মধ্যে। খুঁজে নিতে হয়।
এই প্রবন্ধে মোক্ষদাপ্রসাদ রায় চৌধুরী র " সদগোপ কুলীন সংহিতা " নামক একটি প্রাচীন
পুস্তকের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এই মানুষ টি
ও ' ম্যালি সাহেবের অধীনে জনগণনার কাজ করেছেন। মূলত ethnological। তিনিও সেই সময়েই উপাদানের অভাবে ভুগেছেন।
" সদগোপ " জাতিকে তিনি বর্ণ হিসাবে ' বৈশ্য ' বলেছেন। শাস্ত্র থেকে নানা উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
প্রকাশকাল। ১৩২২ বঙ্গাব্দ।
এছাড়া বিনয় ঘোষ এর পশ্চিম বঙ্গের সংস্কৃতি বা
ডঃ অতুল সুর এর " বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন
পুস্তক টির সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
------------ ------------ ------------ ------------ সমাপ্ত।
লেখক। প্রণব ভট্টাচার্য। আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চাকারী।
*- আমার লেখা ' এলেমবাজার নিলামবাজার ইলামবাজার " বই টি তে বিস্তৃত রয়েছে। 
বই টি যদি সংগ্রহ করেন বা পড়েন, দেখবেন নানাবিধ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। যা একটা ছোট্ট বই এ সাধারণত পাওয়া যায়না। 
হয়তো আপনারা ভাবছেন অজয়ের উত্তরে বীরভূমের ইলামবাজার। তার সাথে কি সম্পর্ক এপারের গোপভূমির। 
মৌখিরা কালিকাপুর এর জমিদার পরিবার নিয়ে বলতেই হত। আর তা বলতে গিয়েই, বাড়তে হয়েছে। 
ইলামবাজার বই টি সংগ্রহ করতে পারেন। অক্ষর যাত্রা প্রকাশনীর আনন্দগোপাল হালদার কে ফোনে অর্ডার দিলেই বাড়িতে বসে বই টি সংগ্রহ করতে পারবেন। তাঁর নং 9474907307. 

* আশা করছি  ' ইছাই ঘোষের দেউল ঃ কথা ও কাহিনী " বই টি ও আগামী বাংলা বর্ষে প্রকাশিত হবে। অনেক কথা আর কাহিনী।

* আসলে কি জানেন এই জায়গা তো খোলা হাট। 
কতভাবে কতজন যে আমার লেখা থেকে তথ্য নিয়ে কত প্রবন্ধ লিখলেন! কোথাও আমার নাম মাত্র উল্লেখ নাই। একজন লিখলেন স্থানীয় এক লেখক। কিন্তু বললেন না সেই লেখকের লেখা থেকেই টুকছি। এই সব নানা কথা। তাই এখানে কি, কতটুকু, লিখব বা বলব ভাবতে হচ্ছে। 
যাই হোক। বাদ দিন

তেপান্তর পাঠশালা।

' এবং আমরা ' নাটকের দলের সদস্য দের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা ' তেপান্তর নাট্য গ্রাম '। 
 সময় টা খুব কম নয়। নাটকের দলের বয়স ত্রিশ বছর পার হয়ে গেছে। এই তেপান্তর গড়ে উঠেছে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায়। এই সময় কালে এই নাট্যগ্রামে মানুষ দেখেছেন কত নাটক, কত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজ্যের, রাজ্যের বাইরের, বিদেশের নাট্য দল গুলি এখানে নাটক করে গেছেন। 
 তিন দিনের তেপান্তর মেলায় ( দোল মেলায়)  অগনিত মানুষ এসেছেন। মেলার আনন্দ উপভোগ করেছেন। মেলার সময়ে মুক্তমঞ্চে সারা পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেছেন। 
 নাটকের জন্যই নাট্যগ্রাম। নিশ্চয়ই নাটক হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে  তেপান্তর মেলার ও  যথারীতি  আয়োজন হবে। 
 এবার টীম ' এবং আমরা ', "তেপান্তর নাট্য গ্রাম " নিতে চলেছে এক সম্পূর্ণ  নূতন উদ্যোগ। শুরু করা হচ্ছে 
   তেপান্তর পাঠশালা। আগামী ১ লা মার্চ তার শুভ উদ্বোধন হবে। অনেক বিশিষ্ট মানুষের উপস্থিতি তে। ঐদিন ই ছোটদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। 
আঁকার প্রশিক্ষণের জন্য থাকবেন বিশিষ্ট শিল্পীরা। 
 এই পাঠশালা কোন প্রথাগত পাঠশালা নয়। 
এক সাংস্কৃতিক পাঠশালা। উপযুক্ত তত্ত্বাবধানে, 
 নানা বিধ সাংস্কৃতিক মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষিত করা হবে। যেন তারা একটা লেভেলে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। 
 এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল কে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে, এই পাঠশালা তার কার্যক্রম কে পরিচালিত করবে। 
 
 আসুন ১ লা মার্চ বৈকাল ৫ টায়। 
 সকলের সাদর আমন্ত্রণ।
 আসুন। এগিয়ে আসুন। আশাকরি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন
 মানুষ রা প্রসন্ন  সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন।

পছন্দের গন্তব্য তেপান্তর

তেপান্তর। 
তেপান্তর নাট্য গ্রাম। এক সৃষ্টি। 
" সৃষ্টি সুখে, সৃজন আনন্দে " গড়া এই নাট্যগ্রাম। 
দলগত প্রচেষ্টা। দীর্ঘ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম। 
   তেপান্তর তার  ফসল।"
আমাদের আনন্দ নিকেতন। 
আপনারাও আসুন। উপভোগ করুন। 

যদি এখনও এখানে না এসে থাকেন 
অবশ্যই এই শীতে একবার আসুন। 
তারপর তো দোল মেলা আছেই। 
যাঁরা হৈ হট্টগোল এড়িয়ে একটু নিরিবিলি তে 
নিজের সময় কাটাতে চান তাঁদের জন্য চমৎকার এক জায়গা। 
আসুন। থাকুন এখানে। চারপাশ ঘুরে দেখুন। 
আর যদি আমার কাছ থেকে চারপাশের গল্প ইতিহাস টা শুনে নিয়ে বের হন বেড়ানো টা অন্যরকম হয়ে যাবে। 
আসুন। ভালো লাগবেই।
** পশ্চিম বর্দ্ধমান এর কাঁকসা থানার, অযোধ্যা বনকাটি এলাকা র সাতকাহনিয়া গ্রামে এই তেপান্তর নাট্য গ্রাম। নিকট বর্তী বাসস্টপ পানাগড় মোরগ্রাম হাইওয়ে র উপর এগারো মাইল। 
গুগুল ম্যাপে দেখুন।
যোগাযোগ, বুকিং। তাপস চ্যাটার্জি। নং 95630 14447

** বন্ধুরা পোষ্ট টি শেয়ার করুন। এই অনুরোধ। 
আজকের আনন্দবাজার পত্রিকার জেলার পাতার কড়চা য় তেপান্তর কে নিয়ে লেখা। 
ধন্যবাদ আনন্দবাজার। 
সামান্য ত্রুটি।  রঘুনাথপুরের সাতকাহনিয়া নয়। 
অযোধ্যা বনকাটি এলাকা য় সাতকাহনিয়া গ্রামের পূর্ব অংশে এই তেপান্তর নাট্য গ্রাম।

Tuesday, 25 February 2025

বীরভূমের বৈচিত্র্যময় মন্দির

বীরভূম কে বলা হয় ' ধর্মসাধনার জাদুঘর "। নানা ধর্মীয় আন্দোলনের স্রোত বীরভূমের উপর দিয়ে বয়ে গেছে।  
 তৈরি হয়েছে নানা মন্দির মসজিদ। 
 সমগ্র রাঢ়বঙ্গ তো দূর গোটা বীরভূম কে আলোচনায় ধরা সম্ভব নয়। সংক্ষিপ্ত এক রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। 
 জৈন ধর্ম বীরভূমের উপর নেমে এসেছে। কোন জৈন মন্দির এখানে যদিও নাই কিন্তু ছিল। ঘুড়িষা গ্রামে জৈন তীর্থঙ্কর সর্পছত্রধারী পার্শ্বনাথ জীর মূর্তি পথের ধারে পড়ে আছে। 
 গ্রামে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা নানা জৈন মূর্তি ছোট বেলায় দেখেছি। ভগ্ন। ভাঙ্গা যে হয়েছে কঠিন আঘাতে তা পরিষ্কার বোঝা যায়। 
 জাতক কাহিনীতে সত্যতা যদি কিছু মাত্র থাকে তাহলে বলা যায় বুদ্ধদেব বীরভূমের উপর দিয়ে হেঁটে পুণ্ড্রবর্ধনে গিয়েছিলেন। ইলামবাজার নিকট বর্তী দেবীপুর গ্রামে 
 দেবী সুহ্মেশ্বরী র ভগ্ন মূর্তির পাদদেশে খোদিত ছিল 
 " যে ধর্মের  হেতু হইতে উৎপত্তি, ------------  " যে ধর্ম্মা  হেতু 
 প্রভবা হেতুং তেষাং তথাগতহ্যবদৎ। তেষাঞ্চ যো নিরোধঃ
এবং বাদি মহাশ্রমণঃ " 
এখানের ধর্মরাজের নাম " সুহ্মরায় "। সুহ্ম অতি প্রাচীণ শব্দ। 
 রাঢ়দেশের প্রাচীণ নাম ই " সুহ্ম "। মহাভারতের টীকাকার নীলকন্ঠ বলেছেন " সুহ্মঃ  রাঢ়া " 

 তাছাড়া ' বুদ্ধরায় ' বা বুধোরায় বা বুদ্ধেশ্বর শিবের নামে বেঁচে আছে বুদ্ধের স্মৃতি। কোন বৌদ্ধ স্তুপ বা মন্দিরের নিদর্শন নাই। 
 হয়তো ছিল। বা হয়ত এখনও মাটির নীচে। 
 বাঙ্গলার ইতিহাস তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাটির নীচে ই। 
------------ ------------ ------------ ------------ ------------ 

 বৈচিত্রময় বীরভূম ঃ  বৈচিত্র্য এর ভূ প্রকৃতি তে। মাটিই তো কথা বলে। মানুষের রক্তে। তার শরীরে, মনে। 
 বিচিত্র এই বীরভূম। মননের বৈচিত্র্য। সেই বৈচিত্র্য থেকেই 
 মন্দির স্থাপত্য রীতি র এত বিচিত্রতা বীরভূম ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না। বীরভূম কে বলা হয় " ধর্মসাধনার জাদুঘর "। নানা ধর্মীয় আন্দোলনের স্রোত বয়ে গেছে বীরভূমের উপর দিয়ে। 
জৈন, সহজিয়া বৌদ্ধ, শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণবীয় এবং ইসলাম। সুফীবাদের প্রভাব। নানা ধর্মীয় স্রোত। মানুষের মনোজগতে এর সুগভীর প্রভাব আছে। 
 চালা, রত্ন, শিখর, দেউল সহ ভিত্তিভূমি থেকে কৌণিক ভাবে 
 উপরে উঠে যাওয়া রীতি  সহ নানা রীতির সমাবেশ বীরভূমে। 
 প্রস্তর নির্মিত, ল্যাটেরাইট বোল্ডার ( কামানো পাথর ও বলা হয়) । ছাড়া বাকী সব মন্দির ই ইঁটের তৈরী। নিকট বর্তী 
ছোট নাগপুর মালভূমি থেকে পাথর এনে তাকে নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য যে অর্থ বিনিয়োগ দরকার তা এখানে খুব কমই হয়েছে। স্থানীয় ভূস্বামী বা ধনী ব্যবসায়ী বা রাজকর্মচারী রাই বা পণ্ডিত রা 
মন্দির গুলি নির্মান করিয়েছিলেন। 

বীরভূমের মন্দির স্থাপত্য এবং তার অলংকরণ বাঙ্গলার মন্দির স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। 
বাঙ্গলার সমাজ বিবর্তনের ও বাঙালির মনস্বিতার ও ভাবপ্রবনতা র চিত্র এই মন্দির ভাস্কর্যের মধ্যে প্রতিফলিত। 
মঙ্গলকাব্য সমূহের সমাজ চিত্রণের কথাকে মাথায় রেখেও বলতে হচ্ছে " পটভূমির প্রসারে, কল্পনার বিস্তারে, এবং শিল্প সৃষ্টির দক্ষতায় বাঙ্গলার মন্দির শিল্পকে সমসাময়িক যুগের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম দলিল বলে অভিহিত করা চলে। "
 " বাঙ্গলার মন্দির বাঙ্গালীর জাতীয় তীর্থ। "
বাঙ্গালী র আন্তরহৃদয়ের পরিচয় দিতে, তার স্পর্শশীলতার, তার আনন্দ বেদনার এবং সর্বোপরি তার আধাত্মিক অনুভূতির ইঙ্গিতে বাংলার দেবদেউল গুলি একান্তই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। " ( কল্যাণ কুমার গাঙ্গুলি)  
  
প্রস্তর নির্মিত দেউল ঃ রসা বড়রা,  কবিলাসপুর, পাঁচড়া, মহুলা, রসা, পারশুণ্ডি । নাগর রীতি র 
 ল্যাটেরাইট বোল্ডার নির্মিত, ভিত্তি  ঃ দুবরাজপুর, মল্লারপুর, বক্রেশ্বর  ইত্যাদি। এখন সিমেন্ট প্লাষ্টার পড়ায় আর ঠিক বোঝা যায়না। 
 কোথাও ভিত্তি  ল্যাটেরাইটের,  উপরিভাগ ইঁটের। চূণ সুরকির গাঁথনি। এবং চূনের প্লাষ্টার।।
রসার প্রস্তর নির্মিত দেউল খুবই বিখ্যাত। সংস্কার হয়েছে। কিন্তু আমলকের কাজ করা যায়নি। 
শৈব এবং শাক্ত সাধনার স্থল। এখানের বিশাল বটবৃক্ষের বাহু বন্ধনে রয়েছে আরও কয়েকটি ছোট মন্দিরের ধংসাবশে্ষ। শোনা যায় বর্ধমানের সর্পি গ্রামের জমিদার অর্জুন রায় চৌধুরী এই মন্দির গুলির নির্মাতা। 
 উচ্চতার দিক দিয়ে ঃ ভাণ্ডীরবন। ( এখানে বিতর্ক আছে 
 পুরাতত্ত্ব বিভাগ বলেছেন প্রস্তর নির্মিত কিন্তু অন্য বিশেষজ্ঞ রা ম্যাককাচ্চন সাহেব সহ বলেছেন ইঁট নির্মিত) 
 প্রাচীন মন্দিরের ভিতের উপরে দেওয়ান রামনাথ ভাদুড়ি কর্তৃক নির্মিত। সংস্কারে সংস্কারে মূল চেহারায় পরিবর্তন যা আসা স্বাভাবিক তাই হয়েছে। 
 ১৭৫৪ খ্রীস্টাব্দে নির্মিত। প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চ। 
* কলেশ্বর।  ঢেকার রামজীবন রায় কর্তৃক নির্মিত শিবমন্দির। 
* ডাবুক। ডাবুকেশ্বর শিবমন্দির। সর্বোচ্চ শিখর দেউল।
** অসামান্য ফুলপাথরের অলংকরণ সমন্বিত। 
গণপুর। গণপুর কে বলা হয় এখানে ফুলপাথরের মহাকাব্য রচিত হয়েছে। অসাধারণ এখানের মন্দিরের কাল। মণ্ডল বাড়ি সহ কালীতলার  মন্দির গুচ্ছ । আসামান্য অলংকৃত এখানের দোলমঞ্চ টি। 
মুলুটি, মাসড়া, গণপুরের মন্দিররের অন্যতম  বৈশিষ্ট্য এখানে চালা রীতি র মন্দিরের আর্চের  উপরে মন্দিরলিপি সমূহ। যা নিয়ে আলাদা কাজ করা যায়। 
** অনুপম ফুলপাথরের অলংকরণ সমন্বিত মন্দিরের অন্যতম সিউড়ি সোনাতোড় পাড়ার চালা রীতি র রঘুনাথ জীর মন্দির। অসামান্য এর অলংকরণ। শোনা যায় এক ঘণশ্যাম দাস বাবাজী ভিক্ষালব্ধ অর্থে এই মন্দির নির্মান করিয়েছিলেন। 
বিগ্রহ হীন। চুরি হয়ে গেছে। 
* দুবরাজপুর এর মন্দির। নায়ক পাড়ার মন্দিরে চমৎকার জ্যামিতিক ডিজাইন এর কাজ আছে। 
এছাড়া ওঝা পাড়ার মন্দিরদুটি র কাজ চমৎকার। 
* হেতমপুর এর চন্দ্রনাথ মন্দির। একটি ব্যতিক্রমী মন্দির। এখানের টেরাকোটা কাজের মাধ্যমে বিদেশি জীবন চিত্রের ছবি আছে। 
*বিশালাকৃতি। নবরত্ন মন্দির। ৮০ ফুট উচ্চ। ২৫ ফুট বর্গের বিশাল মন্দির। সামনের অংশের টেরাকোটার অলংকরণ, মূলতঃ রামায়ণ কাহিনী র 
রাম রাবণ এর যুদ্ধ।বানর সেনাদের ভূমিকা চমৎকার ফুটেছে। এছাড়াও আছে সামাজিক চিত্রন। বর্ধমানের রাজা কীর্তিচাঁদ জননী ব্রজকিশোরী দেবী এই মন্দির নির্মান করিয়েছিলেন 
 জেলা গেজেটিয়ার অনুযায়ী - 
* ঘূড়িষা রঘুনাথ জীর মন্দির। ১৬৩৩ সাঃ অব্দে। নির্মিত। জেলার  প্রাচীণতম।! অসাধারণ সুক্ষ্ম এর টেরাকোটা অলংকরণ।স্বর্ণালংকারের সৌন্দর্য এর দেওয়াল জুড়ে। পণ্ডিত রঘুত্তম আচার্য এর নির্মাতা। অতি প্রাচীণ শিলালেখ আছে। 
* ঘুড়িষা বেণেপাড়ার ক্ষেত্রনাথ দত্ত কর্তৃক নির্মিত 
লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির। হাই রিলিফের অতি চমৎকার কাজ এখানে রয়েছে। চৈতন্য লীলা, ত্রিপুরাসুন্দরীর অসাধারণ প্যানেল। মধ্য অষ্টাদশ শতকের নির্মান। 
* ইলামবাজারের তিনটি বিখ্যাত মন্দির। 
অষ্টকোনাকৃতি গৌরাঙ্গ মন্দির। হাটতলায়। আসামান্য এর জ্যামিতিক ডিজাইন। নকল দরজা। 
এবং ফুলপাতার নক্সা। 
* ব্রাহ্মণ পাড়ার  বিষ্ণু দালান। উচ্চ বেদীর উপরে  বৃহদাকৃতির পঞ্চরত্ন মন্দির। অসাধারণ এর টেরাকোটা র কাজ। রাসমণ্ডল, দুর্গাপ্যানেল, চৈতন্য লীলা এর কাজ। হাই রিলিফের কাজ ভাস্কর্যটি দিকে গেছে। ক্ষুদিরাম বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্মাতা। নির্মানকাল মধ্য অষ্টাদশ শতক। 
* রামেশ্বর শিবমন্দির।  রামধন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিবমন্দির। ছোট্ট ফলকে আসামান্য বিভঙ্গে রাধাকৃষ্ণ।হাইরিলিফে জগদ্ধাত্রী এবং দুর্গামূর্তি এর অন্যতম প্রধান কাজ। 
* সুরুলের মন্দির। জমিদার সরকার বাড়ির ছোট তরফের শিবমন্দির এর টেরাকোটা অলংকরণ ছিল অসাধারণ। যথাযথ ভাবেই সংস্কার হয়েছে। 
* সুপুরের জোড়া মন্দির।  অষ্টকোনাকৃতি মন্দির এবং দেউল রীতি র মন্দির এবং তার টেরাকোটার কাজ চমৎকার। 
* বীরভূমের অন্যতম জোড়বাংলো মন্দির রীতি র মন্দির রয়েছে ইটাণ্ডা য়। এই মন্দির এবং সাধুখান পাড়ার শিবমন্দিরের টেরাকোটা কাজ দৃষ্টি নন্দন। 

**
ঘুড়িষা রঘুনাথ জী র মন্দির। জেলার প্রাচীণতম মন্দির বলে কথিত। এটির স্থাপনাকাল ১৫৫৫ শকাব্দ। ১৬৩৩ খ্রীস্টাব্দে। অসামান্য এর টেরাকোটা অলংকরণ। 
কিন্তু রামপুরহাট থানা অন্তর্গত  মাসড়া গ্রামের শিবমন্দির টি ১৫৩৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১৬৩১ খ্রীস্টাব্দে নির্মিত। 
মাসড়া তখন মুলুটির রাজাদের অধীনস্থ। 
মন্দির টি ' রাজলোহাপাল ' সিতবদাস তাঁর মা সিদ্ধেশ্বরী র নামে প্রতিষ্ঠা করেন। 
 এই মন্দিরের অলংকরণ ছিল ফুলপাথরের। 
 সংস্কারের নামে সিন্থেটিক রঙের প্রলেপে ঢেকে গেছে প্রাচীণ কারুকার্যের সৌন্দর্য। 
 এই মন্দিরের প্রাচীণ প্রতিষ্ঠা লিপি টি এইরূপ - 
 শ্রী শ্রী রামাই ১৫৫৩ সেবক রাজলোহাপাল। ৪২৩ ××× সিতবদাস কর্মকারের মাতা শ্রী মতী সিদ্ধর শ্রী ঈশ্বর শিব স্থাপনাকারি ×××   ×××  
 মুলুটি নিকট বর্তী এই মাসড়া গ্রাম ছিল লোহা কেনাবেচা র এক কেন্দ্র। প্রাচীণ পদ্ধতিতে লোহা গলানো হত। কর্মকার রা প্রভূত ধনী হয়ে উঠেছিলেন। 
 পরবর্তী তে এই সকল এলাকা ' লোহামহল ' নামে  ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর ইজারার মধ্যে আসে। 
 গ্রামে ঝামার স্তুপে এখনও অনেক লোহামল বা slag পাওয়া যায়। 
 মাসড়া গ্রামের এই ছোট্ট শিবমন্দির টি প্রতিষ্ঠাকালীন হিসাব অনুযায়ী বীরভূম জেলার প্রাচীন তম মন্দির। 
------------ ------------ ------------ ------------ ------------ 
অনেক বন্ধুর সেদিনের আমার কথিকা,আকাশবাণী  শান্তিনিকেতনে শোনা হয়নি। 
অনেকে শুনেছেন। 
সঞ্চালক ছিলেন কমলেশ্বর চট্টোপাধ্যায় 
তাঁদের জন্যই এই লেখা। মোটামুটি এই লেখার ভিত্তিতে।

Saturday, 15 February 2025

গোপভূম কথা (২) অংশ

।। গোপভূম ঃ  কাঁকসা রাজবংশ ঃ  কথা ও কাহিনী।।  ১ ম পাতা।  ------------  প্রণব ভট্টাচার্য
প্রাচীণ  ' গোপভূম '।  অজয় দামোদর উপত্যকা ভূমির  বিস্তীর্ন
ভূভাগ   গোপভূম  নামেই প্রাচীণকাল থেকেই পরিচিত।
প্রাচীণ। কিন্তু কত প্রাচীণ এই নাম। অন্তত বাঙ্গলার পাল - সেন রাজাদের সময়কাল থেকে। না কি তার ও আগে।
পাল - সেন যুগে রাঢ় বঙ্গে ' দ্বাদশ ভূমের ' উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই দ্বাদশ ভূম হচ্ছে  ১) বীরভূম  ২) সেনভূম ৩) শিখরভূম
৪) গোপভূম  ৫) ব্রাহ্মণ ভূম ৬) মানভূম ৭) বরাভূম ৮)  ধলভূম
৯) সিংভূম ১০) তূণভূম ১১) মল্লভূম ( মাল ভূম)  ১২) ভঞ্জ ভূম।
এই সব ভূমের সামন্ত বা ভৌমিক রাজারা প্রায় স্বাধীন ভাবেই নিজ নিজ এলাকা শাসন করতেন। কেন্দ্রীয় পাল বা সেন রাজাদের কর প্রদানকারী অধীনস্থ সামন্ত। পাল রাজাদের আমলে এঁদের কে বা এঁদের মতো অন্যান্য ভৌমিক রাজাদের
' অনন্ত সামন্তচক্র ' বলা হয়েছে। আবার এঁদের উপরেই অনেকাংশে  নির্ভর করতে হত কেন্দ্রীয় শাসক দের।
উত্তরে র কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় রামপাল কে এই সামন্তবর্গ
সহায়তা করেছিলেন। পশ্চিমের  এই সীমান্ত এলাকা প্রহরার
ব্যবস্থা এঁরাই করতেন,  নিজেদের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী।
কিন্তু তেমন যুদ্ধ প্রস্তুতি এঁদের ছিল বলে মনে হয়না। রাজেন্দ্র চোল বা ধঙ্গদেব বা লক্ষ্মীকর্ণ রাঢ়দেশ জয় করে আরও উত্তরে
অনেক টা অগ্রসর হয়েছিলেন।
রাজেন্দ্র চোল এর তিরুমালাই গিরিলিপি তেই উত্তররাঢ় এবং দক্ষিণ রাঢ়ের উল্লেখ রয়েছে। তিনি রাঢ় দেশ জয় করেছিলেন।
ধঙ্গদেব রাঢ়াধিপতিকে পরাজিত এবং নিহত করে রাঢ়ের মহিষী সহ রমনী দের বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর খর্জুরবাহক লিপি তে তার উল্লেখ আছে। তবে  চোল বা
ধঙ্গদেবের  লিপিতে রাঢ়ের অধিপতি কে ছিলেন তার কোন উল্লেখ নাই। উল্লেখ আছে দক্ষিণ রাঢ়ের রাজা রণশূর বা এক
ধর্মপালের। এই ধর্মপাল কিন্তু গৌড়াধিপতি ধর্মপাল নন।
লক্ষ্মীকর্ণ বীরভূম পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলেন। পরে তাঁর সাথে
  গৌড়াধিপতি র সন্ধি হয়। এই সন্ধির মধ্যস্থতা করেছিলেন
অতীশ দীপংকর।
   ইছাই ঘোষের সময়কাল নিয়ে নানা মতভেদ আছে। বা তাঁর পূর্ব পুরুষ দের। বাঙ্গলা দেশের রামগঞ্জ নামক স্থানে প্রাপ্ত
তাম্রশাসনের শুরুতে ই লিখিত " বভুব রাঢ়াধীপ লব্ধজন্মা "
তিনি রাঢ়াধিপ ; মহামাণ্ডলিক। তিনি ত্রিষষ্টিগড়ের অধিপতি।
এই " ত্রিষষ্টিগড় " কি ছোট বড় মিলিয়ে ৬৩ টি গড়!
তাঁর অধীনস্হ রাজকর্মচারী দের নাম দেখে মনে হয় তিনি
রাঢ়দেশর এক জন ক্ষমতাশালী মহামাণ্ডলিক। এই মহামাণ্ডলিক উপাধি পাল রাজাদের আমলে প্রদান করা হত।
  তিনি নিশ্চিত ভাবেই রাজেন্দ্র চোল বা ধঙ্গদেবের আক্রমণের পূর্ব বর্তী বংশের ব্যক্তি। সম্ভাবনা বেশী রাজা দেবপালের সময়কালের মানুষ তিনি।
আবার এক প্রশ্ন কোথায় রাঢ়দেশ আর কোথায় রামগঞ্জ!
সেখানে কিভাবে গেল তাঁর প্রচারিত তাম্রশাসন? 
ইছাই ছিলেন তান্ত্রিক। তন্ত্রের মহা পীঠস্থান কামাখ্যা যাওয়ার পথে তিনি এই তাম্রশাসন প্রচার করেছিলেন এমন অনুমান
খুব অসঙ্গত নয় বোধহয়।
  ৬ ষষ্ঠ শতকের এক রাজা গোপচন্দ্রের উল্লেখ আমরা পাই
গলসীর নিকট বর্তী মল্লসারুল গ্রামে প্রাপ্ত তাম্রলিপি থেকে।
সেটি মল্ল সারুল লিপি হিসাবেই বিখ্যাত। রাজা গোপচন্দ্রের
  অধীনস্থ মহাসামন্ত বিজয় সেন স্বাধীন ভাবেই এই এলাকা য়
রাজত্ব করতেন। এক ব্রাহ্মন নির্বোক শর্মাকে জমি ক্রয় করে
তাঁকে দান করা হচ্ছে।
  এই গোপচন্দ্রের নামের সাথে গোপভূম এর নামের বেশ সাযুজ্য রয়েছে।
অজয় দামোদর উপত্যকা ভূমির বিস্তৃত চারণভূমি র জন্য
পশুপালক ; কৃষিজীবি ; গোপ বা সদগোপ দের বসতির
প্রাধান্যের জন্য এলাকার নাম  " গোপ ভূম "। এমন মত খুবই প্রচলিত। সদগোপ রা বাঙ্গলার অন্যতম প্রধান প্রাচীন জাত।
কর্ম অনুযায়ী জাতের পরিচয়। গোপ দের সাথে সদগোপ দের
একটা সম্পর্ক অবশ্যই ছিল। গোপ অর্থে গোয়ালা। সদগোপ্ রা মূলত কৃষি কর্মে দক্ষ। এবং তাঁরা কৃষিজীবি। উদ্বৃত্ত ফসল বা শস্য তাঁরা বিক্র‍য় ও করেন। অনেকে নিজেদের বর্ণ হিসাবে
বৈশ্য বলেন। সদগোপ দের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা বা থাক ; ঘর এসব চালু করেছিলেন বিখ্যাত সদগোপ রাজা মহেন্দ্র।
অমরারগড়ে ছিল যাঁর রাজধানী।
স্থানীয় গোপদের পাশাপাশি বাইরে থেকেও অনেক এই পেশার
মানুষ এখানে এসে বসবাস স্থাপন করেন। পর্যাপ্ত চারণভূমি র
লোভেই তাঁরা এখানে আসেন। এঁদের ও তাই কয়েকটি থাক।
  স্থানীয় রা পশুপালনাদি সহ চাষাবাদ ও করেন। কিন্তু আহীর গোপ বা পল্লব গোপেরা সাধারণত কৃষি কর্মে যুক্ত নন।
সম্ভবত বহিরাগত দের সাথে একদল গোপেদের মিলন মিশ্রণ
থেকে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সদগোপ রা পৃথক হয়ে যান। রাজা ভল্লুপাদ থেকে রাজা মহেন্দ্র কে সদগোপ রা নিজেদের নায়ক বলেই মনে করেন।
অপর দিকে গোপ রা  তথা কিছু সদগোপ রা ও ইছাই ঘোষ কে
তাঁদের নায়ক হিরো বলেই মনে করেন।
  রাজা ভল্লুপাদের কথা কাহিনী আলাদা করে বলা দরকার যদিও বহুশ্রুত।
  এই ভল্লুপাদ রাজার ( ভালকী যাঁর রাজধানী ছিল)  পুত্র
গোপাল। গোপালের পুত্র শতক্রতু। শতক্রতু পুত্র মহেন্দ্র এবং
অমরেন্দ্র। তারপর এগারো জনের নাম কীটদষ্ট পুঁথি র জন্য
না পাওয়া যাওয়ায়  শেষ রাজা বৈদ্যনাথ। তিনিই বহিরাক্রমনের র  জন্য রাজ্যচ্যুত হন। এবং বংশের অন্যান্য রা
নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।
ভালকী বংশ জাতরা  " রায় " পদবী গ্রহন করেন।
রাজা মহেন্দ্রের রাজধানী ছিল অমরারগড়। তাঁর স্ত্রীর নামে এই নাম। অমরাবতী  মল্ল রাজ বংশের মেয়ে ছিলেন।
রাজা মহেন্দ্র ছিলেন নানা গূণবিশিষ্ট একজন প্রকৃত রাজা।
পুকুর দিঘি খণন সহ নানা জনহিতকর কাজ তিনি করেছিলেন। আজকের সমগ্র এলাকা দেখলে তা প্রতীয়মান হবে। এই জলাশয়। পুকুর দিঘি।
পরবর্তী প্রজন্মে  শক্তিশালী রাজপুরুষ এর কথা মাথায় রেখে
রাজপুতনা বা পশ্চিম দেশ থেকে তিনি তাঁর দুই জামাতাকে
আনয়ন করেছিলেন। বড়মেয়ে যমুনার সাথে বিবাহ হয়
শিবাদিত্য এর। আর কালিন্দি র সাথে বিবাহ হয় প্রতাপাদিত্যর। উভয় জামাতাই বহিরাগত। রাজপুত রক্ত আমদানি করার জন্যই তাঁর এই পরিকল্পনা। তিনি এই অনুভব করেছিলেন রাজ্য শাসনে শৌর্য বীর্য সম্পন্ন শক্তি শালী মানুষ চাই।
সিহুড় বা কাঁকসা রাজবংশের সাথে রাজা ভল্লুপাদের প্রত্যক্ষ যোগ নাই। তাঁরা রাজা মহেন্দ্রর দুই জামাতা। জামাতা ভ্রাতারা
বা তাঁদের বংশের সন্তানেরা নিজেদের কুমার বা কুঙার বলে
পরিচয় দেন।
আগেই যাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে তিনি 
ভল্লুপাদ পুত্র গোপাল। যাঁর নামে  নাম হয়েছে  " গোপভূম "।
এমন মত ও যথেষ্ট মনোযোগ এর দাবী করে।
এবং সম্ভাবনা প্রবল বলেই আমরা মনে করি।
রাজা মহেন্দ্র র আরাধ্যা দেবী শিবাক্ষ্যা। দশভুজা এই প্রস্তর
মূর্তি রাজা মহেন্দ্র খাজুরডিহি র এক বাড়ি থেকে আনয়ন করেন। শিবাক্ষ্যা সমগ্র গ্রামের গ্রামদেবী। এই শিবাক্ষ্যা দেবীর মন্দিরে যে পুঁথি ছিল( যা এখন আর দেখা যাবেনা। হয় বিনষ্ট নয়তো লুণ্ঠিত) সেখানে যে   গাথাবলী ছিল সেখানের তথ্যেই
স্বাভাবিক ভাবেই অনেকে বিশ্বাস স্থাপন করেন।
------------ ------------ ------------ ------------ ১ পাতা শেষ।
আগামীকাল বা পরশু পরবর্তী অংশ টি দেব। 
অনেক পুরনো লেখা। 
বিস্তৃত আছে আমার  এলেমবাজার নিলামবাজার ইলামবাজার  বই টি তে। প্রকাশিত ২০২৩ কলিকাতা বই মেলা
অক্ষর যাত্রা প্রকাশনীর আনন্দগোপাল হালদার কে ফোনে অর্ডার দিলেই বাড়িতে বসে বই টি সংগ্রহ করতে পারেন। নং 9474907307

গোপভূম কথা

।। গোপভূম ঃ  কাঁকসা রাজবংশ ঃ  কথা ও কাহিনী।।  ১ ম পাতা।  ------------  প্রণব ভট্টাচার্য
প্রাচীণ  ' গোপভূম '।  অজয় দামোদর উপত্যকা ভূমির  বিস্তীর্ন
ভূভাগ   গোপভূম  নামেই প্রাচীণকাল থেকেই পরিচিত।
প্রাচীণ। কিন্তু কত প্রাচীণ এই নাম। অন্তত বাঙ্গলার পাল - সেন রাজাদের সময়কাল থেকে। না কি তার ও আগে।
পাল - সেন যুগে রাঢ় বঙ্গে ' দ্বাদশ ভূমের ' উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই দ্বাদশ ভূম হচ্ছে  ১) বীরভূম  ২) সেনভূম ৩) শিখরভূম
৪) গোপভূম  ৫) ব্রাহ্মণ ভূম ৬) মানভূম ৭) বরাভূম ৮)  ধলভূম
৯) সিংভূম ১০) তূণভূম ১১) মল্লভূম ( মাল ভূম)  ১২) ভঞ্জ ভূম।
এই সব ভূমের সামন্ত বা ভৌমিক রাজারা প্রায় স্বাধীন ভাবেই নিজ নিজ এলাকা শাসন করতেন। কেন্দ্রীয় পাল বা সেন রাজাদের কর প্রদানকারী অধীনস্থ সামন্ত। পাল রাজাদের আমলে এঁদের কে বা এঁদের মতো অন্যান্য ভৌমিক রাজাদের
' অনন্ত সামন্তচক্র ' বলা হয়েছে। আবার এঁদের উপরেই অনেকাংশে  নির্ভর করতে হত কেন্দ্রীয় শাসক দের।
উত্তরে র কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় রামপাল কে এই সামন্তবর্গ
সহায়তা করেছিলেন। পশ্চিমের  এই সীমান্ত এলাকা প্রহরার
ব্যবস্থা এঁরাই করতেন,  নিজেদের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী।
কিন্তু তেমন যুদ্ধ প্রস্তুতি এঁদের ছিল বলে মনে হয়না। রাজেন্দ্র চোল বা ধঙ্গদেব বা লক্ষ্মীকর্ণ রাঢ়দেশ জয় করে আরও উত্তরে
অনেক টা অগ্রসর হয়েছিলেন।
রাজেন্দ্র চোল এর তিরুমালাই গিরিলিপি তেই উত্তররাঢ় এবং দক্ষিণ রাঢ়ের উল্লেখ রয়েছে। তিনি রাঢ় দেশ জয় করেছিলেন।
ধঙ্গদেব রাঢ়াধিপতিকে পরাজিত এবং নিহত করে রাঢ়ের মহিষী সহ রমনী দের বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর খর্জুরবাহক লিপি তে তার উল্লেখ আছে। তবে  চোল বা
ধঙ্গদেবের  লিপিতে রাঢ়ের অধিপতি কে ছিলেন তার কোন উল্লেখ নাই। উল্লেখ আছে দক্ষিণ রাঢ়ের রাজা রণশূর বা এক
ধর্মপালের। এই ধর্মপাল কিন্তু গৌড়াধিপতি ধর্মপাল নন।
লক্ষ্মীকর্ণ বীরভূম পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলেন। পরে তাঁর সাথে
  গৌড়াধিপতি র সন্ধি হয়। এই সন্ধির মধ্যস্থতা করেছিলেন
অতীশ দীপংকর।
   ইছাই ঘোষের সময়কাল নিয়ে নানা মতভেদ আছে। বা তাঁর পূর্ব পুরুষ দের। বাঙ্গলা দেশের রামগঞ্জ নামক স্থানে প্রাপ্ত
তাম্রশাসনের শুরুতে ই লিখিত " বভুব রাঢ়াধীপ লব্ধজন্মা "
তিনি রাঢ়াধিপ ; মহামাণ্ডলিক। তিনি ত্রিষষ্টিগড়ের অধিপতি।
এই " ত্রিষষ্টিগড় " কি ছোট বড় মিলিয়ে ৬৩ টি গড়!
তাঁর অধীনস্হ রাজকর্মচারী দের নাম দেখে মনে হয় তিনি
রাঢ়দেশর এক জন ক্ষমতাশালী মহামাণ্ডলিক। এই মহামাণ্ডলিক উপাধি পাল রাজাদের আমলে প্রদান করা হত।
  তিনি নিশ্চিত ভাবেই রাজেন্দ্র চোল বা ধঙ্গদেবের আক্রমণের পূর্ব বর্তী বংশের ব্যক্তি। সম্ভাবনা বেশী রাজা দেবপালের সময়কালের মানুষ তিনি।
আবার এক প্রশ্ন কোথায় রাঢ়দেশ আর কোথায় রামগঞ্জ!
সেখানে কিভাবে গেল তাঁর প্রচারিত তাম্রশাসন? 
ইছাই ছিলেন তান্ত্রিক। তন্ত্রের মহা পীঠস্থান কামাখ্যা যাওয়ার পথে তিনি এই তাম্রশাসন প্রচার করেছিলেন এমন অনুমান
খুব অসঙ্গত নয় বোধহয়।
  ৬ ষষ্ঠ শতকের এক রাজা গোপচন্দ্রের উল্লেখ আমরা পাই
গলসীর নিকট বর্তী মল্লসারুল গ্রামে প্রাপ্ত তাম্রলিপি থেকে।
সেটি মল্ল সারুল লিপি হিসাবেই বিখ্যাত। রাজা গোপচন্দ্রের
  অধীনস্থ মহাসামন্ত বিজয় সেন স্বাধীন ভাবেই এই এলাকা য়
রাজত্ব করতেন। এক ব্রাহ্মন নির্বোক শর্মাকে জমি ক্রয় করে
তাঁকে দান করা হচ্ছে।
  এই গোপচন্দ্রের নামের সাথে গোপভূম এর নামের বেশ সাযুজ্য রয়েছে।
অজয় দামোদর উপত্যকা ভূমির বিস্তৃত চারণভূমি র জন্য
পশুপালক ; কৃষিজীবি ; গোপ বা সদগোপ দের বসতির
প্রাধান্যের জন্য এলাকার নাম  " গোপ ভূম "। এমন মত খুবই প্রচলিত। সদগোপ রা বাঙ্গলার অন্যতম প্রধান প্রাচীন জাত।
কর্ম অনুযায়ী জাতের পরিচয়। গোপ দের সাথে সদগোপ দের
একটা সম্পর্ক অবশ্যই ছিল। গোপ অর্থে গোয়ালা। সদগোপ্ রা মূলত কৃষি কর্মে দক্ষ। এবং তাঁরা কৃষিজীবি। উদ্বৃত্ত ফসল বা শস্য তাঁরা বিক্র‍য় ও করেন। অনেকে নিজেদের বর্ণ হিসাবে
বৈশ্য বলেন। সদগোপ দের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা বা থাক ; ঘর এসব চালু করেছিলেন বিখ্যাত সদগোপ রাজা মহেন্দ্র।
অমরারগড়ে ছিল যাঁর রাজধানী।
স্থানীয় গোপদের পাশাপাশি বাইরে থেকেও অনেক এই পেশার
মানুষ এখানে এসে বসবাস স্থাপন করেন। পর্যাপ্ত চারণভূমি র
লোভেই তাঁরা এখানে আসেন। এঁদের ও তাই কয়েকটি থাক।
  স্থানীয় রা পশুপালনাদি সহ চাষাবাদ ও করেন। কিন্তু আহীর গোপ বা পল্লব গোপেরা সাধারণত কৃষি কর্মে যুক্ত নন।
সম্ভবত বহিরাগত দের সাথে একদল গোপেদের মিলন মিশ্রণ
থেকে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সদগোপ রা পৃথক হয়ে যান। রাজা ভল্লুপাদ থেকে রাজা মহেন্দ্র কে সদগোপ রা নিজেদের নায়ক বলেই মনে করেন।
অপর দিকে গোপ রা  তথা কিছু সদগোপ রা ও ইছাই ঘোষ কে
তাঁদের নায়ক হিরো বলেই মনে করেন।
  রাজা ভল্লুপাদের কথা কাহিনী আলাদা করে বলা দরকার যদিও বহুশ্রুত।
  এই ভল্লুপাদ রাজার ( ভালকী যাঁর রাজধানী ছিল)  পুত্র
গোপাল। গোপালের পুত্র শতক্রতু। শতক্রতু পুত্র মহেন্দ্র এবং
অমরেন্দ্র। তারপর এগারো জনের নাম কীটদষ্ট পুঁথি র জন্য
না পাওয়া যাওয়ায়  শেষ রাজা বৈদ্যনাথ। তিনিই বহিরাক্রমনের র  জন্য রাজ্যচ্যুত হন। এবং বংশের অন্যান্য রা
নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।
ভালকী বংশ জাতরা  " রায় " পদবী গ্রহন করেন।
রাজা মহেন্দ্রের রাজধানী ছিল অমরারগড়। তাঁর স্ত্রীর নামে এই নাম। অমরাবতী  মল্ল রাজ বংশের মেয়ে ছিলেন।
রাজা মহেন্দ্র ছিলেন নানা গূণবিশিষ্ট একজন প্রকৃত রাজা।
পুকুর দিঘি খণন সহ নানা জনহিতকর কাজ তিনি করেছিলেন। আজকের সমগ্র এলাকা দেখলে তা প্রতীয়মান হবে। এই জলাশয়। পুকুর দিঘি।
পরবর্তী প্রজন্মে  শক্তিশালী রাজপুরুষ এর কথা মাথায় রেখে
রাজপুতনা বা পশ্চিম দেশ থেকে তিনি তাঁর দুই জামাতাকে
আনয়ন করেছিলেন। বড়মেয়ে যমুনার সাথে বিবাহ হয়
শিবাদিত্য এর। আর কালিন্দি র সাথে বিবাহ হয় প্রতাপাদিত্যর। উভয় জামাতাই বহিরাগত। রাজপুত রক্ত আমদানি করার জন্যই তাঁর এই পরিকল্পনা। তিনি এই অনুভব করেছিলেন রাজ্য শাসনে শৌর্য বীর্য সম্পন্ন শক্তি শালী মানুষ চাই।
সিহুড় বা কাঁকসা রাজবংশের সাথে রাজা ভল্লুপাদের প্রত্যক্ষ যোগ নাই। তাঁরা রাজা মহেন্দ্রর দুই জামাতা। জামাতা ভ্রাতারা
বা তাঁদের বংশের সন্তানেরা নিজেদের কুমার বা কুঙার বলে
পরিচয় দেন।
আগেই যাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে তিনি 
ভল্লুপাদ পুত্র গোপাল। যাঁর নামে  নাম হয়েছে  " গোপভূম "।
এমন মত ও যথেষ্ট মনোযোগ এর দাবী করে।
এবং সম্ভাবনা প্রবল বলেই আমরা মনে করি।
রাজা মহেন্দ্র র আরাধ্যা দেবী শিবাক্ষ্যা। দশভুজা এই প্রস্তর
মূর্তি রাজা মহেন্দ্র খাজুরডিহি র এক বাড়ি থেকে আনয়ন করেন। শিবাক্ষ্যা সমগ্র গ্রামের গ্রামদেবী। এই শিবাক্ষ্যা দেবীর মন্দিরে যে পুঁথি ছিল( যা এখন আর দেখা যাবেনা। হয় বিনষ্ট নয়তো লুণ্ঠিত) সেখানে যে   গাথাবলী ছিল সেখানের তথ্যেই
স্বাভাবিক ভাবেই অনেকে বিশ্বাস স্থাপন করেন।
------------ ------------ ------------ ------------ ১ পাতা শেষ।
আগামীকাল বা পরশু পরবর্তী অংশ টি দেব। 
অনেক পুরনো লেখা। 
বিস্তৃত আছে আমার  এলেমবাজার নিলামবাজার ইলামবাজার  বই টি তে। প্রকাশিত ২০২৩ কলিকাতা বই মেলা
অক্ষর যাত্রা প্রকাশনীর আনন্দগোপাল হালদার কে ফোনে অর্ডার দিলেই বাড়িতে বসে বই টি সংগ্রহ করতে পারেন। নং 9474907307