Thursday, 11 February 2021

ওষুধ সম্পর্কে দু চার কথা যা জানি মাত্র

ওষুধ সম্পর্কে দু চার কথা যা জানি মাত্র
-----------------      ----------------    ------------------
   গল্প শুরু করি।
প্রতিদিন এক মদ্যপায়ী  মদ্য পান সেরে এসে
প্রথম প্রথম ' র‍্যান ট্যাক ; জিন্ট্যাক চাইত। তারপর কম দামের মানে এক টাকার ' প্রহিবিন ' তারপর ' অ্যাসিলক ' আর  তারপর  এসে চায় ' ওমেজ '।
আমার কাছে নয়। ওষুধ দোকানের কাউন্টারে। কাগজের কৌটো টা দেখিয়ে দেয়। এভাবে অনেক দিন চলেছিল।
সেদিন দেখলাম অন্য একটা কৌটো দেখাল।
যার বেচা কাজ সে বেচবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই।
সে নিল একটা রাবেপ্রাজোল + ডমপেরিডন + লেভোসালপিরাইড কম্বিনেশন।  দাম ১৪ টাকা। মার্কেটেড বাই এক বড় কোম্পানি। ম্যানুফ্যাকচারড বাই পড়া যায়না এত ছোট লেখা। ব্যাচ নং  এসব বাদ দিন। কে দেখে?
আমি বুঝি জেনেরিক প্রিপারেশন।
আমি তাকে শুধালাম হ্যাঁ রে এটা নিলি কেন? 
ভাল কাজ করে। মনটা মাষ্টার ভালো থাকে।
ভাবলাম হ্যাঁ লেভো সালপিরাইডের একটা ভূমিকা আছে বটে  মনের উপর। একটা ওয়েল বিয়িংনেস ভাব আনে।
আচ্ছা ইটোপ্রাইড ; লেভো সাল পিরাইড  এগুলো তাহলে বাজারে আছে। সাইড এফেক্ট এর জন্য বন্ধ হবার কথা শুনেছিলাম। ভুল শুনেছিলাম হয়তো। যেমন ক্লোরামফেনিকল আছে। আরও কত যে রয়েছে। কত কম্বিনেশন। থিয়োরি  অনুমোদন করেনা। করেনা তো কি। আমি কোম্পানি। আমার নিজস্ব গবেষণা আছে। তার জন্য আমাকে দাম নিতে হয়।
বাজারে দেখছি কত নতুন নতুন কোম্পানির নাম।
গুজরাট ; হরিয়ানা ; হিমাচল প্রদেশে র ঠিকানা সব।
গ্রাম গঞ্জের ওষুধের বাজার ছেয়ে গেছে জেনেরিক ওষুধে।
দাম কিন্তু বড় বড় কোম্পানি ব্র‍্যাণ্ডে ড ওষুধের মতোই।
তেমনই লেখা থাকে প্যাকেটে র উপর। এবার যে যেমন বেচে।
মনের উপর কাজ করে যে ওষুধ গুলো সে গুলো কাউন্টার থেকে ই বিক্রি হয়। না কি নিষেধাজ্ঞা ছিল না আছে।
বড় রাস্তার ধারে এক ওষুধ দোকানে বসেছিলাম।
মোটর বাইক নিয়ে দুজন যুবক এলো।
নামল। আঙুল দিয়ে চার দেখাল।
দুজনে দুটি করে চারটি নাইট্রোসান টেন ট্যাবলেট নিল।
দুটি করে একসাথে খেল। জলের বোতল টা কাউন্টার থেকে নিয়ে। তারপর যেমন উড়ে এসেছিল তেমনি উড়ে চলে গেল।
দাম দেয় সাত দশ দিন পরে বা সাথে সাথে।
ফেনসিডিল কফ সিরাপ খাবার জন্য গাড়ি নিয়ে আসেন এক ভদ্রলোক। তিনি ডিকিতে আগে থেকে প্যাক করে রাখা বাক্স তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান।
আমি দেখি। তারাও দেখে।
যার বেচা কাজ সে বেচে।
ঠিক আছে। সব ঠিক আছে।
না। ঠিক নাই। ঠিক যে নাই তা অনেকেই বুঝছেন। কিন্তু -
মনোরোগ ক্রমাগত বাড়ছে। অনেক সময় তা ফেলে রাখছি। ডাক্তার এর কাছে যাব। পাগল হলাম না কি।
আরে বাবা পাগলামি সে তো অনেক দূরের পর্যায়।

তার আগে ডাক্তার বাবু র  কাছে যাও।
বারবার মন খারাপে ভুগতে ভুগতে একদিন যে রোগ চেপে
বসবে। একই চিন্তা দুঃশ্চিন্তা বারবার মনে পাক খাচ্ছে।
ডাক্তার বাবু যদি মনে করেন ওষুধের দরকার আছে। তিনি লিখবেন।
মনোরোগ একদিন মহামারি র রূপ নেবে। আজ এ পৃথিবী মনোরোগাক্রান্ত।
ওষুধ। হ্যাঁ আছে। যদিও মন কে যে সব বুঝে উঠতে পেরেছি তা নয়। কিন্তু হাতে যা ওষুধ আছে তা দিয়ে অনেকটা ভালো থাকা যায়।
রোগ অসুখ  আর ডাক্তার ওষুধের মাঝে তো আর কেউ নেই রে বাবা।
মনোরোগ এর ওষুধ গুলির যা দাম বাড়ল। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গুলির ব্র‍্যাণ্ডেড ওষুধ গুলির দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে -
সামান্য  এমিট্রিপ্টিলিন ; ক্লোর ডায়াজিপোক্সাইড  থেকে শুরু করে  এসসিটালোপ্রাম ;  সার্টালিন ; প্রোথিয়াডিন ; প্যারো বা  ফেনোক্সেটিন আরও কত নাম - -
উদ্বেগ ; উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে।  আলপ্রাজোলাম ; ক্লোনাজিপাম ; কি লোরাজিপাম ছাড়া তো অনেকের চলছেই না। মনের মধ্যে কালো মেঘ পাক খেয়ে খেয়ে উঠছে কেবলই।
এগুলো সব গাঁগঞ্জে কাউন্টারেই পাওয়া যায়।  নানা জেনেরিক প্রোডাক্ট। দাম সেই নামী ব্র‍্যাণ্ডের মতো ই।
বাজারে যে কত বলবর্ধক ওষুধ। নাম তাদের ফুড
সাপ্লিমেন্ট।  দেশী বিদেশি কত কোম্পানি নেমেছে। এত বড় বাজার এদেশের। কার না লোভ হবে। কত দেশী বিদেশি কোম্পানির নিউট্রিশন  প্রোডাক্ট।
আর কত যে টনিক। যে দোকানে ডাক্তার বাবু বসেন ; তার মালিক কে কিছু তো পাইয়ে দিতে হবে। সব জেনেরিক প্রোডাক্ট। একশো টাকার নীচে কোন দাম নেই। হ্যাঁ ডাক্তার বাবুরা লিখছেন।
সমস্যা নিয়ে ডাক্তার বাবু র কাছে যাওয়ার আগেই ওষুধের দোকান দার ধরিয়ে দিচ্ছেন  সিলডেনাফিল। চারটি ট্যাবলেট এর দাম লেখা একশো র কাছাকাছি। এক দোকানদার সেদিন আমাকে বলল বীরভূমের গ্রামে গঞ্জে খুব বিক্রি। যে যা দামে পারে বেচে। বেচো বাবা বেচো।
গাঁ গঞ্জে এই সব ওষুধ দোকানের বিক্রেতা ( যদিও একটা ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স)  টাঙানো আছে সব দোকানে ই। হতে পারে সেটা ভাড়া য়। যাই হোক জ্বর জ্বালা তে এই সব মানুষেরা ই ভরসা। আর গ্রামীণ  ডাক্তার যাঁরা আছেন তাঁরা ই।
কোথাও এমন গ্রামীণ ডাক্তার আছেন যাঁর একটা আর ; এম  পি লাইসেন্স আছে শুধু। তাঁর পসার এবং আর্থিক প্রতিপত্তি শহরের বড় ডাক্তার দের চেয়ে বেশী। সব কাজ জানেন। দাঁত তোলা থেকে ; গর্ভপাত ; এমন কি অপারেশন।
আমি অবাক হয়ে যাই তাঁদের দুয়ারে রোগী র ভীড় দেখে।
অনেক কেই রাত্রে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বৃদ্ধির জন্য একটা ওষুধ নিতেই হয়। ট্যামসুলোসিন ( ব্র‍্যাণ্ড নাম ইউরিম্যাক্স ; ভেলটাম ; ডায়নাপ্রেস ইত্যাদি)  আর তার সাথে ফেনাস্টিরাইড বা ডুটা স্টেরাইড যুক্ত থাকলে তো কথাই নেই। দাম তিন শো থেকে চলল উর্ধ্বে -
  অ্যান্টি বায়োটিকের দাম ; যে ভাবে বাড়ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ কোর্স শেষ করতে পারছে না। আর হাসপাতাল সাপ্লাই এর ওষুধে মানুষের কোন ভরসাই নেই।
তাহলে বাঁচব কিভাবে। না। টাকা না থাকলে আপনি বাঁচবেন না।
বাঙ্গালী ডাক্তার রা কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে কেন মানুষ দক্ষিণে ছোটেন। আমাদের কাছের শহর দুর্গাপুরে অবাঙ্গালী ডাক্তার দের দাম বেশী। বিতর্ক হবে। দেখুন বিজ্ঞাপন।  হার্ট বা নার্ভের জটিল অপারেশন হবে। ডাক্তারবাবু আসবেন দক্ষিণ থেকে।
হায় বাঙ্গালী তোমার দিন গিয়াছে।
একদিন সারা ভারত আসত কলকাতায়।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করলে ব্র‍্যাকেটে লেখা থাকত  ক্যাল। আর আজ?  সবাই নিজেকে প্রশ্ন করুন।
  হঠাৎ সেদিন নজর পড়ল ' ভারতীয় জনওষধী পরিযোজনা ' নামের প্রকল্পের ওষুধ দোকানে। আলাপ হল মালিকের সাথে। তিনি ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিলেন। আমি র‍্যাক গুলো তে চোখ বুলিয়ে দেখলাম প্রয়োজনীয় প্রায় সব ওষুধ ই রয়েছে।
আমি প্রথমেই ট্যামসুলোসিন ত্রিশ টি নিলাম। অবাক হলাম দাম দেখে। মাত্র ৫৪ টাকা। কাজ করবে তো!  মনে প্রশ্ন।
না দেখলাম ঠিক ই তো আছে।
এখন নিয়মিত ই নিচ্ছি। আমাদের স্বামী স্ত্রী র সব ওষুধ মিলিয়ে বাজার থেকে নিলে প্রায় ৪০০০ টাকা লাগত। এখন সব ওখান থেকে নিচ্ছি। পড়ছে বারো চোদ্দ শো টাকা।
কিন্তু এই দোকান তো আর হাতের কাছে নেই।
আর আমাদের ডাক্তার বাবু রা ব্র‍্যাণ্ড ই লিখবেন।
আবার লিখবেন  ; বদলাবেন না।
রোগী র আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি র কথা ভেবে ডাক্তার বাবুরা ওষুধ লিখছেন তো। গরীব এক সুগারের রোগী কে ওষুধ যদি লিখি ঐ গ্লিপটিন গ্রুপের। কিনে খেতে পারবেন? 
  কাউকে জ্ঞান দিচ্ছিনা। জ্ঞান আমি আর কি দেব।
একবার তেপান্তর নাট্য গ্রামে বাংলাদেশের এক দল এসেছিলেন নাটক নিয়ে। এক ভদ্রলোকের সাথে বসে গল্প করছিলাম। খাবার সময় হল। ভদ্রলোক পকেট থেকে বের করলেন সুগারের ওষুধ। বাংলায় লেখা ' গ্লিবিজাইড '।
বাংলায় ওষুধের নাম লেখা দেখে বাঙ্গালী হিসাবে আমার স্বাভাবিক আনন্দ হল। আবার একটু ভাবলাম। একটু পিছনের জেনারেশেন এর ওষুধ। আমি খাই ' গ্লিমেপিরাইড '।
ওঁদের দেশে সব ওষুধ ই জেনেরিক। ব্র‍্যাণ্ডের বহর নাই।
উনি বললেন দেখুন গরীব দেশ। কম দামের ওষুধ দিয়ে যদি রোগ ভালো হয়।
আর আমরা যেন বড়লোক।
হ্যাঁ। যারা বড়লোক তারা বড়লোক।ওখানেও তাই। কিন্তু আপামর জনগণ।
  তাদের সংখ্যা টা সঠিক ভাবে নিরূপিত হোক।
আর তার বিপরীতে র সংখ্যা টা ও।
কার কত দেনা তাও প্রকাশিত হোক।
লিস্টি টাঙ্গিয়ে দেওয়া হোক।
ওষুধের বাজার টা দেখা হোক। লক্ষাধিক ব্র‍্যাণ্ড। কোটি কোটি মানুষ। লক্ষাধিক কোটি টাকার ওষুধ ব্যবসা।
ওষুধের মান নির্ণয়ের জন্য সংস্থা আছে। তাঁদের সত্যি কোন কাজ আছে কি না জানা নেই আমার। ওষুধের এফিকেসি বা বায়োএভেলিবিলিটি নিয়ে এত প্রশ্ন সংশয় কেন তাহলে।
হাসপাতালের ডাক্তার বাবুরা কি হাসপাতালের ওষুধ এর উপর ভরসা রাখেন!  নিজের বুকে হাত দিয়ে বলুন।
তাঁরা খুব ভালই জানেন স্যাম্পেল টেস্টিং এর সময় যে মাল পাঠানো হয় আর বাজারজাত করার মাল এক নয়।
আরও অনেক কথা বলা বাকী থাকল। বলব।
আপনারা যাঁরা আমাকে জানেন চেনেন তাঁরা বলবেন আরে মশাই আপনি আবার আঞ্চলিক ইতিহাস ছেড়ে ওষুধে এলেন।
কি ব্যাপার!  রঙ বদলালেন না কি। ট্র‍্যাক চেঞ্জ?  না। না। মোটেই  না। আমার অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী না হয় যেন বাবা -
আমি দেখি চারিদিকে চলে শুধু লুঠ।
রঙ বেশ জটিল ব্যাপার। লুঠের কি কোন রঙ আছে নাকি
রঙের রসায়ন আছে।
হলুদে মেটালিক ইয়োলো মেশানোর গণিত কেশব নাগে নাই।
দুধে জল মেশানোর আছে। মেনে নিয়েছি
ছিল। আছে। থাকবে।
-----------  -----------    -----------     ------- ©  প্রণব ভট্টাচার্য। প্রথম পর্ব এখানেই শেষ করি।  নমস্কার। ভালো থাকুন।
একটি আমার আঁকা ছবি 
বাকী গুলির জন্য ওয়াসেফ জামান  এর কাছে ঋণী

Monday, 25 January 2021

মাটির প্রদীপ। আঞ্চলিক ইতিহাস। প্রণব ভট্টাচার্য এর লেখালেখি https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=769140770358503&id=115854079020512ফেসবুক পেজ। একই নাম। মাটির প্রদীপ। আঞ্চলিক ইতিহাস। প্রণব ভট্টাচার্য এর লেখালেখি। এখানেও আমার অনেক লেখা। সবই আঞ্চলিক ইতিহাস এর কথা ও কাহিনী। ভালো লাগলে পড়বেন। আর তেপান্তর নাট্য গ্রামে এলে আমার খোঁজ নেবেন। যদি গল্প শুনতে ভালোবাসেন। শুনবেন। একটা সেশন থাকে। আবার যেতে যেতেও হয়। সবাই কে সঙ্গ দিতে আর পারিনা। চেষ্টা করি। যাঁরা তেপান্তর নাট্য গ্রামে এসে থাকেন। চারপাশ ঘুরে দেখেন। অনেক কিছু দেখার। আর আমি সঙ্গে থাকলে দেখাটা যে অন্য রকম হবে - সে টা পেশাদার ট্যুর অপারেটর বা যাঁরা আমার সাথে ঘুরেছেন তাঁরা ভালোই জানেন। আসুন। আমাদের এই এলাকায়। অযোধ্যা বনকাটি। থানা কাঁকসা। প বর্ধমান। কাছের বাসস্ট্যান্ডের নাম ' এগারো মাইল ' পানাগড় মোরগ্রাম হাইওয়ে র উপর। আসুন তেপান্তরে। থাকুন এখানে। চারপাশ ঘুরুন। আশা করি আপনার অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবেই হবে।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=769140770358503&id=115854079020512

ফেসবুক পেজ। 
একই নাম। 
মাটির প্রদীপ। আঞ্চলিক ইতিহাস। প্রণব ভট্টাচার্য এর লেখালেখি। 
এখানেও আমার অনেক লেখা। 
সবই আঞ্চলিক ইতিহাস এর কথা ও কাহিনী। 
ভালো লাগলে পড়বেন। 
আর তেপান্তর নাট্য গ্রামে এলে আমার খোঁজ নেবেন। যদি গল্প শুনতে ভালোবাসেন। 
শুনবেন। একটা সেশন থাকে। আবার যেতে যেতেও হয়। 
সবাই কে সঙ্গ দিতে আর পারিনা। 
চেষ্টা করি। যাঁরা তেপান্তর নাট্য গ্রামে এসে থাকেন। 
চারপাশ ঘুরে দেখেন। 
অনেক কিছু দেখার। 
আর আমি সঙ্গে থাকলে দেখাটা যে অন্য রকম হবে - সে টা পেশাদার ট্যুর অপারেটর বা যাঁরা আমার সাথে ঘুরেছেন তাঁরা ভালোই জানেন। 
আসুন। আমাদের এই এলাকায়। 
অযোধ্যা বনকাটি। থানা কাঁকসা। প বর্ধমান। 
কাছের বাসস্ট্যান্ডের নাম ' এগারো মাইল ' 
পানাগড় মোরগ্রাম হাইওয়ে র উপর। 
আসুন তেপান্তরে। থাকুন এখানে। চারপাশ ঘুরুন। 
আশা করি আপনার অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবেই হবে।

সে ;মাতামা ; আর এক দীর্ঘ প্রাচীন একাকী খেজুর

একাকী সেই দীর্ঘ প্রাচীন খেজুর  একা দাঁড়িয়ে থাকে। 
 পশ্চিমে মোরাম চাতাল। উঁচু নীচু খোয়াই। ছোটো খাটো ঢিবি নিয়ে গড়িয়ে যায় পুরো দক্ষিণ পশ্চিমে। 
'পাষাণ চণ্ডী' বাগানের ওপারে পশ্চিমে র সূর্য পাটে নামে। 
 একেলা ছেলেটি দাঁড়িয়ে থাকে মোরাম চাতাল এর উপরে পশ্চিমে র ঐ অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে। 
 সে জানেনা কেন তার মন হু হু করে। 
 আবার তো ঘরে ফিরতে হবে বাবাজী বটতলা র নীচ দিয়ে। 
 ফেরার পথে সে ঐ খেজুরের নীচে দাঁড়ায়। সেখানে তখন ছাতিম গাছের পাতার ঝোপে পাতলা আঁধার নেমেছে। 
 খেজুরের নীচে একটা ত্রিশূল গাঁথা। কয়েক টা মাটির ঘোড়া। 
 কারা যে রেখেছে সে জানেনা। 
 জানে এটা গোঁসাই থান। 
 সে কোন গোঁসাই?  মাতামা কে জিজ্ঞেস করে। 
 মাতা কেমন উদাস হয়ে যায়। 
 তারপর বলে সে ছিল রে বাবা এক গোপাল দাস বাবাজী। 
 পিছনে র জলাটা র নাম গোপাল সায়ের। এখন মজে গেছে।
 আর?  আর কিছু জানিনা বাবা। এ তো অনেক পুরনো গাঁ বাবা। ছিল সনাতন বাবাজী র আখড়া। আর নদী ধারে ঐ যে তমাল গাছটা র পাশে ছিল বুড়ো বাবাজীর আখড়া। ঐ যে 'বোরেগী গোড়ে ' পাড়ে। এখন পাড়ে বাবুরা বসিয়েছে  কোঁড়াদের। 
 হ্যাঁ মা ওর নাম ছিল বুড়ো। 
না রে। অন্য কি যে নাম ছিল তা কেউ জানে না বাবা। 
 ও। তুমি তাকে দেখনি। 
 আমি কেন রে এ গাঁয়ের কেউ তাকে দেখেনি। 
আরও ছিল। একদম নদী ধারে  কলাবাগানের ঘাটের কাছে। সাহেব দের নীল চাষ হত ওই যে 
 নীল বাড়িতে তার এক ধারে ছিল আর এক বাবাজী র আখড়া। 
 তার মানে এ গাঁয়ে অনেক বাবাজী র আখড়া ছিল। 
  যা। ঘরে যা এবার। পড়তে বসগা। দাদু বকবে তা না হলে। 
 চ। আমি দিয়ে আসি। আমার কাজ আছে। ও অন্নপূর্ণা কোথা গেলি। লণ্ঠন  টা দে।  
 হালদার দের ডুমুর গাছ তলায় এলে মাতামা তার গা য়ে ফুঁ দিত। একটা বাতাসের স্রোত বইত কোনাকুনি। অগ্নি থেকে বায়ুর দিকে। মাতামা অস্ফুটে বিড়বিড় করত। 
 ও মা কি বলছ। 
 কিছু না। কিছু না। ওনারা যাচ্ছেন। হাত জোড় করে প্রণাম করতেন  মাতামা। বালক দাসী। 
 ( ক্রমশঃ)
--------------------   -------------------    ----------------
  © প্রণব ভট্টাচার্য

Sunday, 24 January 2021

সাতকাহনিয়া শতাব্দী প্রাচীন নবীন দাস বাবাজী র আখড়া। বালক মাতা এবং অন্নপূর্ণা দেব্যা

মাটির প্রদীপ। আঞ্চলিক ইতিহাস। প্রণব ভট্টাচার্য এর লেখালেখি।
আঞ্চলিক ইতিহাসের কথা ও কাহিনী

Home
Friday, 23 August 2019
সাতকাহনিয়া বাবাজী আখড়া
সাতকাহনিয়ার বাবাজী আখড়া। অনেক পুরোনো গ্রাম। অজয়ের দক্ষিণ তীরে। একদিন ছিল অনেক গুলো বৈষ্ণব আশ্রম বা আখড়া। গাঁয়ের মাঝ খানে বিরাট পুরোনো বট জানান দিচ্ছে তার প্রাচীনত্ব।। নাম তার বাবাজী বটতলা। কোন বাবাজী যে রোপণ করেছিলেন -। বটতলার পাশেই বৈষ্ণব সমাধি স্থল । পাশেই নবীন দাস বাবাজীর আখড়া। সে অনেক পুরনো। শতবর্ষের ও বেশী। আরও ছিলেন বুড়ো বাবাজী ; সনাতন বাবাজী ; গোপাল বাবাজীর মতো সহজ সাধকেরা। আজ যদিও আর তাদের আশ্রমের চিহ্ন নাই। আছে কেবল এই নবীন দাস বাবাজীর আশ্রম। সে ও টিকে গেছে এই আশ্রমে একদিন এসে ঠাঁই পেয়ে ছিল বালকমাতা দাসী। গৃহী বোষ্টম ঘরের বাল্যবিধবা। আবার তাঁর কাছে ঠাঁই পেয়েছিলেন বামুন ঘরের প্রায় বাল্যবিধবা অন্নপূর্ণা দেব্যা। বালকমাতা কে আমি মাতামা বলেই ডাকতাম। মা ও বলতাম। কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। প্রায় কোলে চাপিয়ে নিয়ে যেত ওপারে ভিক্ষা বা মাধুকরী করতে। বনে জঙ্গলে নানা লতা পাতা তুলতে। কেন্দুলীর মেলায় নিয়ে যেত আমাকে। নানা আখড়ায় ঘুরতাম। ছোট থেকেই সহজ সাধনার নানা গুহ্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগ্রহ তৈরী হয়ে গিয়েছিল। কত সাধক বাবাজী বাউল বোষ্টম যে এই সাতকাহনিয়ার আশ্রমে এসেছেন। কত জনের গান শুনেছি তাদের কোলে বসে। আমি যে ছিলাম বালক মাতার পালিত ছেলের মতো। সবাই খুব ভালোবাসতেন। পরিণত বয়সে মানে ১০১ বছর বয়সে মারা যান। কানে ভাসে তাঁর গুরু র সেই কথা " ওরে আমাদের গুরুর কোন শিষ্য ১০০র নীচে দেহ রাখবেনা রে " তোর মাতার বয়েস ১০১ " আশ্রমের বাইরে এই তমাল টি হলুদ ফলে ফলে ভরে গেছে। বুড়ো বাবাজী তলার তমাল টি ২০০ বছরের কাছাকাছি। আহা কি শীতল তার ছায়া।
pranab bhattacharyya at 23:39
Share
No comments:
Post a comment
Home
View web version
Powered by Blogger.

Friday, 22 January 2021

ক্ষত The Wounds। ক্রন্দন The Cry

ক্রন্দন। The Cry 
ক্ষত। The Wounds 
ঘুরে ফিরে মনে পড়ে  সেই সব মুখ
ক্ষত আর ক্রন্দনের গভীর অন্ধকার মাখা 
আর অন্ধকার উচ্চারিত হলেই 
যিনি এসে বসেন সামনে
 জীবন তৃষার সেই অমোঘ  কবি
 অবধারিত ভাবেই

রূপ তার কবেকার ঘণ অন্ধকার 
শত সহস্র বৎসরের ওপার থেকে 
ভেসে আসে ক্রন্দন রোল 
দেখা দেয় সেই সব ক্ষত বিক্ষত দেহ

তিনি আর ' পাইন ' দেখেছিলেন 

সে কি  মাত্র  শুধু ছবি ; ভাস্কর্য বা কবিতা 

গভীর ভিতরে তার নিরুপায় রক্ত ক্ষরণ।  
বুকের ভিতরে একটা ভাঙ্গা দেয়াল পুরেই 
যার জন্ম 
 সে কি না দেখে পারে হায়

চির বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যাবে জানি একদিন 
 আমি তার আগে দেখি শুধু জ্বালা ধরা চোখে

Monday, 18 January 2021

রাজকুসুম কথা

।  রাজকুসুম। 
 পাথর প্রতিমা ; বা ফুলকুসমা এই সব নাম উচ্চারণ করলেই যেমন মনের ভিতর থেকে একটা ' আহা ' উঠে আসে - ঠিক তেমনই আমাদের এই 'রাজকুসুম '। 
 কি সুন্দর নাম বলুন। কে বা কারা রেখেছিল এই নাম। 
 কে বলবে। এই বাঙ্গলার অসংখ্য গ্রাম নামে এই ধরনের লালিত্য। যেন কবিতার স্পর্শ।  
 পূর্বে শালের জঙ্গল। সে জঙ্গলের ওপারে পানাগড় - মোরগ্রাম হাইওয়ে। সে জঙ্গলের নাম আছে ' সাতকাটার জঙ্গল '। কিন্তু অনেক খোঁজে র পরও জানতে পারিনি সেই সাতজন কারা। তাদের হত্যাকারী ই বা কে। তবে চোর ; ডাকাত দের উপদ্রব তো ছিলই এক সময়। তা দমনের চেষ্টা ও হয়েছে। যাক সে কথা। 
 উর্বর ভূমির বিস্তৃত ক্ষেত গ্রামের তিনদিকেই। অঢেল ফসল ফলে। কৃষিপ্রধান সম্পন্ন গ্রাম। পশ্চিমে রাস্তা চলে গেছে বাঁদরা - গোপালপুরের দিকে। দক্ষিণে পানাগড় এর দিকে। উত্তরে ত্রিলোকচন্দ্রপুরের দিকে। 
 এখন চমৎকার পাকা রাস্তা। গ্রামকে ঘিরে। 
 তবে গ্রামের সম্পন্ন পরিবার গুলি গ্রাম ত্যাগ করে চলে গেছেন অন্যত্র। আসানসোলের গঁড়াই পরিবার। সেখানে এক রাস্তার নামই এস বি গড়াই রোড। ব্যবসায়ী পরিবার। তাদের পরিবারের সরস্বতী পূজা বিখ্যাত। পূজার সময় বংশের মানুষেরা গ্রামে আসেন। 
 গ্রামে তৈরী করিয়েছেন বিরাট আধুনিক মন্দির। 
 গ্রামের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁরা। এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তেমনই 'রায় ' পরিবার। পানাগড়ে থাকেন। 
 আসলে সেই ১৮৫৫ তে হাওড়া - রাণীগঞ্জ রেল লাইন পাতার পর ই গঞ্জ হিসাবে গড়ে উঠতে থাকে পানাগড় ; রাজবাঁধ    দুর্গাপুর  ইত্যাদি জায়গা।আর্থিক ভাবে সবল ; দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষেরা ব্যবসার জন্য চলে যান বাইরে। সেখানে তাঁরা প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। গ্রামের সাথে সংযোগ ধীরেধীরে কমে যায়। তবু ক্ষীণ হলেও সংযোগ একটা থাকে ই। মাটির টান। 
 মারাত্মক কলেরার সময় এবং বর্ধমান জ্বরের সময় ও অনেক মানুষ গ্রাম ত্যাগ করেন। যেমন অনেকে গোপালপুরে যান। 
 গ্রাম ও সেই সময় দক্ষিণ থেকে সরে আসে উত্তরে। এখন যেখানে গ্রাম। আগে ছিল না কি শ্মশান। 
গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার একসময় ছিলেন খুবই প্রতাপশালী। জমিদার। সেই পরিবারের ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় মশাই এই গ্রামে নাচন গ্রাম থেকে এনে হরগৌরী মূর্তি এবং মন্দির স্থাপন করেন। এখানে সব দেবদেবী র পূজা হয়। এই ভগবতী প্রসাদের সাথে তাঁর মেয়ে পরিচয় দিয়ে   'মায়ের শাঁখা পরার কাহিনী ' জড়িয়ে আছে। শাঁখারী ছিলেন গোপালপুর গ্রামের। দীর্ঘ দিন সেই পরিবার থেকে মায়ের পূজার সময় শাঁখা আসত। 

 গ্রামের উগ্রক্ষত্রিয় ( আগুড়ী)  রা ও যথেষ্ট সম্পন্ন ছিলেন। 
 স্থাপন করেছিলেন এখানকার বিখ্যাত শিবমন্দির টির। 
প্রতিষ্ঠাতা মদনমোহন রায়। সামান্য টেরাকোটা র কাজ আছে। প্রতিষ্ঠা লিপি নাই। মাঝে সংস্কার হয়েছে। তবে মূল আকৃতির ক্ষতি হয়নি। 
হরগৌরী মন্দিরের সামনে মুখোমুখি ছোট আকৃতি র শিব মন্দির দুটি ভগ্ন প্রায়। মুখোপাধ্যায় পরিবার ও যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। রাজকুসুম মৌজার একটা বড় অংশে র খাজনা বর্ধমান রাজবংশের আনুকুল্যে পেতেন গোপালপুর এর গোস্বামী স্থানের জগজ্জীবন গোস্বামী। খাজনা আদায় করতেন মুখোপাধ্যায় পরিবার এর ভূধর মুখোপাধ্যায়। 
 আর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সম্পত্তির খাজনা বছরে দুবার জমা হত বর্ধমান কালেক্টর অফিসে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সাথে মুখোপাধ্যায় পরিবার এর বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। আবার রাজবাঁধে ব্যবসা করার জন্য শ্রীরামপুর থেকেও এক মুখোপাধ্যায় পরিবার এখানে এসেছেন। 
  আবার এই গ্রামের কিছু অংশের জমিদারী ক্রয় করেছিলেন বৈদ্যনাথ দত্ত এবং সরজুবালা দত্ত। 
 একসময় হাজরা পদবী র ব্রাহ্মণ রা ছিলেন। ' হাজরা বাঁধ ' সেই স্মৃতি বহন করছে। জঙ্গলে র মধ্যে রয়েছে ভগ্ন দালান। 
 ইজ্জৎগঞ্জ প্রসঙ্গে এখানে পরে আসব। 
 গ্রামে আছেন ' সামন্ত পরিবার ; আগুড়ি ; সদগোপ  এবং শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের  অন্যান্য  মানুষ জন। সবাই পরস্পর মিলে মিশে আছেন। তাই তো একদিন ছিল   গ্রাম। 
 কাঁকসা র জঙ্গল মহলের একদিনের বিখ্যাত গ্রাম এই রাজকুসুম। এই রাজ আর অন্য কোন রাজ নয় আমাদের বর্ধমানের রাজাদের জমিদারী র অংশ। একটু দূরেই ত্রিলোক চন্দ্রপুর। বর্ধমান রাজ ত্রিলোকচন্দ্রের নামে ই। আবার এই রাজবংশের রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ এর মধ্যে এই সেনপাহাড়ী পরগণা র পুনর্গঠনের কাজ করেছিলেন। 
  গোপালপুর এর বিখ্যাত গোস্বামী স্থলে র স্থাপনা ও সেই বর্ধমানের রাজাদের ই অর্থানুকূল্যে। এবং সেই বৈষ্ণব মঠ মন্দিরের পূজার্চনা এবং  সারা বছরের বৈষ্ণবী য় অনুষ্ঠানাদি পরিচালনা র জন্য পুজার অর্ঘ্য হিসাবে এই  মৌজার খাজনা আশ্রমকে দান - তাই ' রাজকুসুম ' নাম। 
আরও কিছু কথা থাকল বাকী। 
দেখি সংযোজিত করা যায় কি না। 
 @প্রণব ভট্টাচার্য 
তথ্য সহায়তা। গ্রামবাসী প্রবীণ শ্রী রাম শঙ্কর মুখোপাধ্যায়

অষ্টভুজ নটরাজ

কোথায় যে ছিল তোমার আলয় 
 এই পথিপার্শ্বে 
 নবীন পবিত্র বোধিদ্রুম তলে 
আসন বিছানো আজ 
 ' সভাপতি হে  ' 'নটেশ' ' নটরাজ '
 অষ্টভুজ কমনীয় দেহচ্ছন্দ 
গভীর গম্ভীর আনত আনন  মন্ডল
 আত্মসমাহিত মগ্নচৈতন্য 

সে কি কোন আগামীর সংকেত - -

হে রুদ্র  মহাকাল 
' মহাপ্রলয়ের হে নটরাজ '

বহুদূর ইলোরার কৈলাসে র এই রূপ নিয়ে 
কখন এখানে এলে আমার এ রাঢ়ভূমে