Saturday, 23 May 2020

পারুল মা


 পারুলবালা আমার ফুল মা একজন কাননবালা আর অপরজন পারুলবালা। দুই বন্ধু। সখী। ফুল পাতানো সই। সে তো ইতিহাস। কে তার খোঁজ রাখে। কার আর মনে আছে। অযোধ্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী র শেষে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষার দুই জন ছাত্রী। মোট চার জন। গোরুর গাড়িতে চেপে কোনাকুনি পথে দুর্গাপুরে সগড়ভাঙ্গা হাই স্কুলে পরীক্ষা দিতে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংগে দুই অভিভাবক আর প্রধান শিক্ষক ' বড়মাষ্টার ' ননীগোপাল চট্টোপাধ্যায়। সাল ১৯৪৬.।বিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে ১৯৪৪ নাগাদ। '৪০ থেকে এই বিদ্যালয় স্থাপনা র প্রচেষ্টা। ' বড় মাষ্টার ' তাঁর দেশের বাড়ির সবকিছু ছেড়ে এখানে এসেছেন। এলাকার গ্রাম মুখ্য ব্যক্তিদের অনুরোধে স্কুল গড়ে তোলার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রাণপাত পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন এই অযোধ্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়। অনেক কথা আছে। নানা পত্র পত্রিকায় লিখেছি এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা র ইতিহাস।
সেই সময় আশপাশের ২৫/৩০ টি গ্রামে কোথাও কোন স্কুল নাই। কোন কিছু গড়ে তোলা যে কি কঠিন কাজ সে যাঁরা গড়েছেন তাঁরা ই জানেন। যাই হোক স্বাধীনতা দিবসের প্রভাত ফেরী। সদ্য স্বাধীন দেশ। মানুষ আবেগাপ্লুত। প্রভাতফেরী বেরিয়েছে। সামনে সেই দু বালা শঙখ বাজাচ্ছে। বড় মাষ্টার গানের ও মানুষ। গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়েছেন। পাশে লক্ষীনারায়ন চক্রবর্তী। গান মুক্তির মন্দির সোপান তলে তো আছেই আর ' চক্র শোভিত ওড়ে নিশান ;নবভারতের বাজে বিষাণ" উদ্বেলিত দু পাশের মানুষ। ছাত্র বৃত্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র প্রয়াত নির্মল চট্টোপাধ্যায় এর স্মৃতি তে সে দিনের কথা ছিল উজ্জ্বল। আর এখনও বলতে গেলে আবেগরুদ্ধ হয়ে যান প্রথম ব্যাচের ছাত্র ষষ্ঠীপদ দে। আজ চলে গেলেন আমার ফুল মা পারুলবালা সাহা। বাবা তাঁর ধ্বজাধারী সাহা। ছিলেন একজন উদ্যোগী। কানন বালা চলে গেছেন অনেক অনেক দিন আগেই। হ্যাঁ কাননবালা আমার মা। ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষার ' জলপানি ;পাওয়া মেয়ে। তাঁর বাবা ননীগোপাল চট্টোপাধ্যায়। আমার দাদু। এলাকার প্রবীনেরা তাঁকে ' বড়মাষ্টার' ই বলেন। কপালে হাত ঠেকান। সেই প্রজন্ম শেষ হয়ে এল। একটা অধ্যায়। এই লেখার মাধ্যমে আমি স্মরণ করলাম আমার ' ফুল মা কে। আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।



অজয়ের নদী বাঁধ


অজয়ের উত্তরে উত্তর রাঢ়। বজ্রভূমি। দক্ষিণে দক্ষিণ রাঢ়। সুহ্ম ভূমি। বা সুহ্ম। চোল রাজ রাজেন্দ্র চোল রাঢ় আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর তিরুমালায় গিরিলিপি তে এই উত্তর রাঢ় এবং দক্ষিণ রাঢ় এর কথা আছে। তিনি রাঢ়দেশ জয় করেছিলেন। রাঢ় বা লাঢ় দেশের কথা জৈন ধর্মগ্রন্থ আচারাঙ্গ সুত্র তে সর্বপ্রথম পাওয়া যায়। অর্থাৎ অজয় সেই প্রাচীন কাল থেকেই প্রাকৃতিক সীমারেখা।


 আর প্রাকৃতিক সীমারেখা কে গ্রহন করার নির্দেশ তো কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র এর ' জনপদ নিবেশ ' অধ্যায়ে ই দিয়েছেন। ইংরেজ শাসনে ১৮০৬ সালে অজয় বীরভুম এবং বর্ধমান এর সীমারেখা হিসাবে গৃহীত হয়। চীনের হোয়াংহো বা এদেশের দামোদর এর মতো অজয় ' দুঃখের নদী ' হিসাবে আখ্যা না পেলেও অজয়ের প্রবল বন্যায় বারবার দুপাশ ভেসেছে। বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৯৭৮ এর ভয়ংকরী বন্যা র স্মৃতি তো এখনো ক্ষতের মতো জেগে আছে অজয় পারের মানুষ দের মনে। তার আগে ১৯৩৫;৪৩; ৫৬ এই সব সালের বন্যা ও ছিল প্রবল। ১৮৬৬-৬৭ এবং ১৮৭৩ সালের Bengal Embankment Act অনুযায়ী ১৮৭৩ সালে অজয়ের দক্ষিণ পাড়ে গোরা বাজার বা গৌরবাজার থেকে কাজলদিঘী পর্যন্ত ৭মাইল ৩৯৪০ ফুট মাটির বাঁধ নির্মান করানো হয়। পরে পরে ই বিষ্ণু পুর থেকে অর্জুন বাড়ি পর্যন্ত ৪ মাইল এবং তারপরে সাতকাহনিয়া থেকে সাগরপুতুল পর্যন্ত বাঁধ তৈরি হয়। নীচে র দিকে বেশ কিছুটা জমিদারী বাঁধ ছিল। বন্যার জলের তোড়ে বার বার মাটির বাঁধ ভেঙ্গেছে। আবার কিছুটা দক্ষিণে পূর্বে সরে গিয়ে নূতন বাঁধ নির্মিত হয়েছে।


এ বাঁধের ইতিহাস ও তাই উপেক্ষার নয়। বিষ্ণুপুরের বাঁধের গায়ের শতাব্দী প্রাচীন শিমূল গাছ গুলিকে দেখলে বোঝা যায় তাদের প্রাচীনত্ব। নদী বাঁধের দু ধারে ই পরিকল্পিত ভাবে এই সব গাছ লাগানো হয়েছিল। শিমূল ; যজ্ঞডুমুর ; অর্জুন এই সব গাছ। বেশ কিছু আছে। অনেক নাই। সাতকাহনিয়া থেকে অর্জুনতলা পর্যন্ত বাঁধের গায়ের প্রাচীন গাছ গুলি ৭৮ এর বন্যায় উপড়ে ভেসে যায়। বাঁধের সেই সৌন্দর্য ও নষ্ট হয়ে যায়। এই নদী বাঁধের উপর দিয়েই সারাদিন ই মানুষের যাতায়াত। এটা একটা প্রধান পথ ও বটে। অযোধ্যা বনকাটি সাতকাহনিয়া বসুধা এলাকার মানুষ জনের নিকটবর্তী গঞ্জ ইলামবাজার যাবার এটাই প্রধান পথ। ------------------------------------ ------------ ----------------------------------- ( সাতকাহনিয়া ডাক বাংলো র কথা পরে হবে)

Saturday, 16 May 2020

ইছাইঘোষের দেউল ২য়পর্ব

ইছাই ঘোষের দেউল।
১০ ই এপ্রিলের আমার পোষ্ট প্রয়োজনে একটু দেখে নেবেন।
 ' রামগঞ্জ তাম্রশাসনে ' র শুরুতেই ' বভূব রাঢ়াধীপ  লব্ধজন্মা ' ইত্যাদি
অর্থাৎ তিনি রাঢ়ে র অধিপতি।
তাঁর রাজত্বের সীমানা?  জানি না
তিনি ' ত্রিষষ্টি গড়ের ' অধিপতি।
ত্রিষষ্টি মানে কি ৬৩ সংখ্যক গড়ের অধিপতি
না কি তার গড়ের নামই তাই।
অতি প্রাচীন এক অশ্বত্থের তলে ' গড় বেড়ি ' এলাকায় ভগ্ন ধ্বংস প্রাপ্ত এক মন্দিরের নাম স্থানীয় প্রাচীন মানুষেরা বলতেন ' ষষ্ঠীতলা ' 
সমগ্র গড়বেড়ী এলাকা ছিল মোটা মাটির প্রাচীর ঘেরা। আর ছিল দুর্ভেদ্য কাঁটাবাঁশের বেড়া।
অনেক নীচে পরিখা।
কোথায় ছিল ' রাঢ়াপুরী '
বিখ্যাত ' রাঢ়েশ্বর শিবমন্দির ' এর কেন্দ্র করে
এমন অনুমান অনেকের।
বিখ্যাত চোল রাজা রাজেন্দ্র চোল রাঢ় আক্রমন করেছিলেন। তাঁর তিরুমালাই গিরিলিপি থেকেই আমরা উত্তর রাঢ় আর দক্ষিণ রাঢ় এর কথা জানতে পারি। রণশূর ছিলেন দক্ষিণ রাঢ়ের রাজা।
বিজিত রাজাদের মধ্যে ঈশ্বরী ঘোষের নাম নেই
সময় কাল নিয়ে তো বিতর্ক আছে ই। থাকবেই
আবার ধঙ্গদেব আক্রমন করেছিলেন রাঢ়দেশ।
তাঁর আক্রমনেই কি শেষ হয়ে যায় ইছাই এর বংশ।
খর্জূরবাহক লিপি তে আক্রমনের কথা খোদিত।
রাণী কে ও না কি বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেখানে ও রাঢ়াধীপ' এর নাম নেই।
অনেক আলো আঁধারী।
মধ্য রাঢ়ে র এই কেন্দ্রমধ্যে পণ্ডিত জনেরা আলো ফেলুন। আমরা আলোকিত হই।
( চলবে কি? ) 
 1940 সালের ইছাইঘোষের দেউলের ছবিটি পেয়েছি ASI এর আধিকারিক মাননীয় শুভ মজুমদারের সৌজন্যে। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
অনেক বিশিষ্ট মানুষ এসে দেখে গেছেন। যতটা পেরেছি সঙ্গ দিয়েছি। বারবার বলি সামান্য মানুষ।
আসবেন। দেখবেন এই অসাধারন পুরাকীর্তি।
বনকাটি। বনকাটি। থানা কাঁকসা। প বর্ধমান।
পানাগড় মোরগ্রাম হাইওয়ে। এগারো মাইলে নামুন। টোটো নিন। দেউল।
তবে এখন নয়। বিপদ কাটুক। এখন ঘরে থাকুন।

সামান্য কিছু নিজের কথা

নিজের কথা
সে আর কি বলব বলুন
সামান্য মানুষ। আঞ্চলিক ইতিহাস
আমার চর্চাক্ষেত্র। বৃহত্তর পরিধিতে নয়
পরগনা সেনপাহাড়ীর কাঁকসা জঙ্গল মহল
এখনকার থানা কাঁকসা। পশ্চিম বর্ধমান।
এবং প্রতিবেশী এলাকা আউসগ্রাম এর জঙ্গল মহল
আমাদের উত্তরে অজয়। আমাদের এক পা এপারে
আর এক পা ওপারে। একদিন এপার ওপার করতে না পারলে যে কি কষ্ট - সে অন্যেরা বুঝতেই পারবেনা। যেমন আমাদের ই শিবপুর নবগ্রাম আর ওপারে জয়দেব কেন্দুলী। একদিন পারাপার না করতে পারলে কত যে অসুবিধা। এই আমরা এই
অযোধ্যা বনকাটি এলাকার মানুষেরা - আমাদের ওপারে ইলামবাজার। হাট বাজার। নিকটতম গঞ্জ।
বিকালে আমরা কত জনাই বেড়াতে যাই। আমাদের টান তো বীরভূমের প্রতি ই। আমরা বোলপুরে র দিকে ই বেশী যাই। পড়াশোনা বাজার।
পানাগড় দুর্গাপুর যে আমরা যাইনা তা নয়। প্রায়ই যাই। কিন্তু দিন প্রতিদিনের জন্যে আমাদের ইলামবাজার।
মোটামুটি আমার এই অযোধ্যা বনকাটি এলাকা এবং তার কুড়ি কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এর এলাকা নিয়ে ঘোরাফেরা করি। অখ্যাত গ্রামের কোন ভগ্ন স্থাপত্য
খুঁজে বেড়াই। খুঁজি তার ইতিহাস। এখানেই আপনাদের শোনাই। খুব পরিচিত জায়গা গুলি নিয়ে তো অনেক লেখা পত্তর। নানা ব্লগ। সুন্দর সব ছবি। আমি সামান্য। সামান্যের প্রতি ই আমার আকর্ষণ। যাকে কেউ চেনে না। জানে না।
খুব ছোটো তেই আমার মনের গভীরে গেঁথে গেছে
' অঞ্জনা নদীতীরের সেই ভাঙা মন্দির খানি। আর আত্মীয় হীন সেই অন্ধ ভিখারি আর তার সঙ্গী ভক্ত লেজ কাটা কুকুর।
আর জন্মেছি সব হারানো এক গ্রামে। মাটিতে যার বিষাদ। বিষাদ বালক এক পথ হাঁটি কুয়াশা মাখা অতীতে।
অনেক নূতন বন্ধু এই সময় কালে যুক্ত হয়েছেন।
তাঁরা চেনেন না। তাই এই যৎসামান্য।
সকলকে শুভেচ্ছা। ভালোবাসা।

ইছাইঘোষের দেউল ১ ম পর্ব

ইছাই ঘোষের দেউল।
বিখ্যাত পুরাকীর্তি।
পাতলা টালির মতো ইঁটের তৈরি সু উচ্চ দেউল।
বিতর্ক এর সর্বাঙ্গ জুড়ে।
কে ইছাই ঘোষ? বিখ্যাত রামগঞ্জ তাম্রশাসনের রাঢ়াধীপ' মহামাণ্ডলিক' ঈশ্বরী ঘোষ। ত্রিষষ্টিগড়ের অধিপতি। সেখানে তাঁর পিতার নাম ধবল ঘোষ।
ধর্মমঙ্গল কাব্যে তিনি ইছাই ঘোষ। পিতা  সোম ঘোষ।  অনেকে বলেন একই ব্যক্তি। কেউ কেউ  ' না '। 
সুদূর রামগঞ্জ। বাংলাদেশে। সেখানে কি করে গেল তাম্রলিপি। এতো বড় রাজা তো তিনি নন। ইত্যাদি
কে নির্মান করালেন এই দেউল?  
নির্মান কাল নিয়ে নানা মত। বিতর্ক।
এটি কি কোন দেব দেউল?  গর্ভগৃহে কোন বেদী নাই। ছিলনা।'  অনুমিত হয় দেবী ভগবতী 'র মন্দির হিসাবে এটির নির্মান মধ্য অষ্টাদশ শতকে। ' বলছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। আগে ছিল মধ্য পঞ্চদশ শতক।
এখন যে শিবলিঙ্গ দেখবেন তা স্থাপিত হয়েছে ৫০/৬০ বছর আগে। কেন অনুমতি দেওয়া হল?  
কেউ জানিনা।

বারবার সংস্কার হয়েছে বা হচ্ছে। তবু শীর্ষদেশ এর অশ্বত্থের চারা বার বার জন্মায়। বেড়ে ওঠে।
আরও অনেক কথা। পণ্ডিত নই। সামান্য এক আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চাকারী। সে ও তো অনেক দিন হল।
নানা জায়গায় বলেছি। সারস্বত সমাজে ই।
কত লিখেছি। কত জায়গায়।
একটি পুস্তিকা লিখেছিলাম। আর একটি ও নাই।
দু তিন বার ছাপা হয়েছিল। তেপান্তর মেলা থেকে ই অনেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
মানুষ তাঁর এলাকার ইতিহাস জানুক। এই উদ্দ্যেশেই ছোট ছোট পুস্তিকা। মাত্র ১০/ টাকা দাম।
নিশ্চয়ই পণ্ডিতেরা আলোকপাত করবেন।
আমি সমৃদ্ধ হব।
এই আশা নিয়ে শেষ করি।

Friday, 15 November 2019

তেপান্তর। নাট্যগ্রাম। এক এবং অনন্য



তেপান্তর। তেপান্তর নাট্যগ্রাম। গ্রাম সাতকাহনিয়া। পোষ্ট বনকাটি। থানা কাঁকসা।জেলা পবর্ধমান। এসেছেন না কি। না এলে আসুন। সবার আমন্ত্রন। প্রস্তুতি চলছে এবারের সাংস্কৃতিক উৎসবের। যদি আসতে চান কথা বলুন নাট্যগ্রাম কর্ণধার কল্লোল ভট্টাচার্য র সাথে। ফোন ৯৪৩৪৬৪৬৯৮২। অন্য সময়েও আসতে পারেন। তুলনায় ফাঁকা সময়ে। তুলনায় বললাম এই জন্যে যে সারা বছর ই কিছু না কিছু হচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ওদের রান্নাঘর সারা বছর ই খোলা থাকে। কেউ না কেউ আছেন ই প্রায়। আপনারা তখন ও আসতে পারেন। আমি বলি থাকুন। আর এখন আমাদের সবার ই অবস্থা প্রায় একরকম ই। সব দেখে টেখে যত রাত ই হোক ঘরে ফিরি। আর থাকতে যদি হয় ই তো কাছেই তো বোলপুর শান্তিনিকেতন। থাকলে ওখানেই থাকব। খোয়াই সোনাঝুরি র হাটে জিনিষ কেনা কাটা করে ফিরব।

 এসব বলছি কেন জানেন অনেক মানুষ এখন এই এলাকায় বেড়াতে আসছেন। আমার লেখাপত্র পড়েই হোক আর যেভাবেই হোক না কেন একদল ইতিহাস প্রেমী ; মানুষ এলেন। গেলেন। কেউ কেউ থাকলেন। ইছাই ঘোষের দেউল ; অনবদ্য টেরাকোটা কাজ সমন্বিত বনকাটি র মন্দির রাজি; বিখ্যাত অলংকরণ সমৃদ্ধ পিতলের রথ তো আছেই। আর আছে ' গড় জঙ্গল'। দেবী শ্যামারূপা র থান ; গড় বেড়ী। এসব তো সব কিছু ৫-১০ কিমি র মধ্যেই। অযোধ্যা বনকাটি লাগোয়া গ্রাম। প্রায় গঞ্জ এলাকা। সব ই পাবেন। কোন অসুবিধে নেই। আচ্ছা জয়দেব - কেন্দুলী র ; ঘুড়িষার ; ইলামবাজার এর অনবদ্য মন্দির গুলি দেখবেন না। ইচ্ছে হচ্ছে না। " পাণ্ডুরাজার ঢিবি "। যে ঢিবি র নীচে লুকিয়ে আছে ৩৫০০ বছর আগের আদি বাঙ্গালীর ইতিহাস। সত্যি একবার পা ফেলতে ইচ্ছে করছে না। ",তুলাক্ষেত্র বর্ধমান স্তুপ"। পাল রাজাদের আমলে নির্মিত সেই বিখ্যাত ভরতপুরের বৌদ্ধ স্তুপ। যাবেন না একবার। সব ২০ কিমি ব্যাসার্ধ এর মধ্যে ই। যাবেন না কি " রাঢ়েশ্বর শিব মন্দির দেখতে। আর মৌখিরা কালিকা পুর না দেখলে কি চলে। ঐ মন্দির প্রাসাদ রাজি। সেই চাঁদনী। সরোবর। প্রকৃতি। ওই জন্যে বলি এখানে আসুন। সময় নিয়ে। তেপান্তর নাট্য গ্রামে থেকে সব ঘুরুন। দেখুন আমাদের বাংলাকে। জানুন তার ইতিহাস। আমি তো আছি। তেপান্তর এর সব রকমের ' প্যাকেজ ' আছে। আছে তেপান্তর কর্মী দলের আন্তরিকতা। এমন টি বোধ হয় অন্য কোথাও পাবেন না।

Sunday, 6 October 2019

কারিগর দের দুর্গাপুজো। বনকাটি।

এলাকার দুর্গাপুজো। বনকাটি অযোধ্যা। থানা কাঁকসা। প বর্ধমান দুর্গাপুজো চালু করা তো আর সহজ ব্যাপার নয়। অবস্থা ভাল না হলে কি আর বামুন রা তো সবাই অনেক জমি জায়গার মালিক। বন জঙ্গল কেটে সাফ করিয়ে চাষের জমি বের করে তার উপরে চাষী বসিয়ে ধান চাষ। তারপর জমির খাজনা। ফসলের ভাগ নেওয়া। রাজাকে তো কর দিতে হবে। আর রাজারা বামুন দিকে ই সবচেয়ে বিশ্বাসী মনে করেছে। এদের কে ইংরেজ রাও তাই মনে করে। এদের সঙ্গে ভালো ব্যবসা করা যায় ওরা নিজে মুখেই বলেছে। তাই বামুন রা অনেক জঙ্গল জায়গা পেয়েছে ভেঙ্গে আবাদি করার জন্য। এরাই জমিদার হয়েছে। অনেক টাকা খাজনা আদায় করেছে। টাকা জমেছে। সেই টাকায় নানা ব্যবসা করেছে।


 ইংরেজ রাও তাই চেয়েছে। ' আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করো '। আর বনকাটি র বাবুরা করেছে। ব্যবসা করে অনেক টাকা। অনেক টাকা এলাকায় ঢুকেছে। বেনে ; ময়রা মোদক ; তাম্বুলী ; সদগোপ ; স্বর্ণ কার ; কর্মকার ; তাঁতী রা এখানে এসে বসেছে। নিজ নিজ বৃত্তিতে। ভালো ব্যবসা হচ্ছে। জমিদার ঘর গুলোতে ই দিয়ে পারা যায়না। আশেপাশে র জমিদার রাও মাল কেনার অন্য এখানে লোক পাঠায়। নদীর ওপার থেকেও অর্ডার আসে। পাহারা দার দের জন্য ; ডাকাত দলের জন্য ও মাল বানায়। চুরির সোনা বেনে রা কেনে। স্বর্ণকার দিয়ে মাল গড়িয়ে নেয়। থাকে ঘরের গুপ্তঘরে। মাঝে মাঝে ঝুড়িতে করে মুদ্রা পাকা দালান এর ছাদে রোদে দেয়। তখন বন্দুক ধারী পাহারা আনে ভাড়া করে। তাঁতী রা সবাই বেশ কাজ করছে। দালাল দের ভালো অবস্থা। দে দের ও ভালো। লোহার কর্মকার দের সোনার কর্মকার দের অবস্থা বেশ ভালো হয়েছে। দুর্গাপুজো চালু না করলে হয়। চালু হল। যথা রীতি সাড়ম্বরে।