Tuesday, 26 June 2018

ভগ্ন মন্দির

অঞ্জনা নদী তীরে --------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেই কোন ছোটবেলা থেকে ই রবীন্দ্রনাথ এর এই কবিতাটি র প্রতি আমার এক আশ্চর্য দুখী ভালোবাসা আজ যখন পরিণত বয়সে কেন এই ভালোলাগা তার কারণ খুঁজি মনেরগভীরে গিয়ে মাটির প্রদীপ জ্বালি তার ক্ষুদ্র সামর্থের কুণ্ঠিত আলোয় পাঠ করি চিত্রলিপি পাণ্ডুরাজার ঢিবির তলদেশে কিম্বা চন্দ্রকেতুগড় টেরাকোটা নারী কে আদর করি এক আশ্চর্য আবেগে ভোলনি তো আমাকে আমি তো ছিলাম। এই তো আছি সব ছবি বেশ পুরোনো হয়ে এল সেতো অনেক দিন সেই সব বালিকারা অনেক খেলা সাঙ্গকরেছে নিজেদের আঙিনায় তাদের আর মনে নাই ভাঙ্গা মন্দিরের পাশে টগর গাছের তলার খেলাঘর মনে নাই পথের ধারে মন্দিরের দাওয়া থেকে বৃষ্টি শেষে পথের নদী তে জোড়া ঝাঁপ সেই পোড়ো মন্দির খানি পরপর চলচ্ছবি র মতো যেন চোখের সামনে দিয়ে চলে চলে যায়। আমার ভিতরেঅন্তর্লীন বিষাদের সাথে মিশে যায় এক ভাঙা মন্দিরের হাহাকার। বুঝি হে বিষাদ তুমিই এখানে আমাকেএনেছ।  ভাঙ্গা একটা  দেওয়াল বুকে পুরেই জন্ম যার--- তার সেই ভাঙ্গা দেওয়াল এর  কালি পড়া কুলুঙ্গি তে তবু ম্লান দীপ জ্বলে।
অতি ক্ষুদ্র সামর্থে আলো ছড়ায়।

হে অমা- মহা নিশা

তমিস্রার দেবীরপূজা : জংগল মহল বর্ধমানের জংগল মহল। পরগনা - সেনপাহাড়ী। গড় জংগল। হাজার বছর আগে ছিল মহামাণ্ডলিক ইছাই ঘোষের গড়।ঢেকুর বা ত্রিষষ্টি গড়। অনেক দিন পর প্রায় আড়াই শো বছর আগে গড়ের ধ্বংসাবশেষ এর উপর কেল্লা বানিয়েছিলেন বর্ধমানের রাজা চিত্রসেন। তিনি ই তৈরি করিয়েছিলেন দেউল। বিখ্যাত ইছাই ঘোষের দেউল। জংগল এর সীমান্তে ছোটবড় নানা গ্রাম। জামডোবা ; সরস্বতীগঞ্জ; রক্ষিতপুর; লোহাগুড়ি; হরিকি; মলানদিঘি ; কুলডিহা হয়ে আরো দক্ষিণে আড়া ; বামুনাড়া; গোপালপুর ; বান্দরা। পশ্চিমে আকন্দারা; ধবনী ; বিজড়া - শোভাপুর ; কাঁটা বেড়ে ; জামবন জাঠগোড়ে ; শিবপুর ; বিষ্টুপুর ; নবগ্রাম। উত্তরে অজয়।ওপারে কেন্দুলী। উত্তরপূর্বে বনকাটি - অযোধ্যা ; সাতকাহনিয়া ; বসুধা ; রাধামোহনপুর। জংগলের গায়ে গায়ে বনগ্রাম ; নিমটিকুরি ; কোটালপুকুর ; গৌরাঙ্গ পুর ; দামোদরপুর; খেড়োবাড়ি। জংগল ভুমি র ভিতরে ভিতরে অনেক গুলি সাঁও তাল পাড়া। জংগল মানেই গা ছমছমে ভয়। গভীর জংগল। দিনে ই আঁধার। রাত বিভীষিকা র। তন্ত্রসাধনা ; কালী সাধনার ক্ষেত্র এই জংগল ভুমি। তমসার দেবীর পূজা না করে কি আর রণে যাওয়া যায়। ডাকাত রা তার পূজা করে। সেনপাহাড়ির ডাকাত রা কুখ্যাত। হাঁড়ি;ডোম; মুচি ; মেটে ; বাগদী ; মাল ; বাউরী। যারা ছিল একদিন ইছাই ঘোষের সৈনিক। তারা ই পরে ডাকাত হল। সেনপাহাড়ির মুচি রা তো বিখ্যাত। এরা সবাই কালীর পূজা না করে ডাকাতি তে যায়না। কালীপূজা হয় না এমন কোন গ্রাম নেই এই জংগল ভূমি তে। পরে গ্রামের ভূস্বামীরা ও চালু করলেন সাড়ম্বরে আঁধারনাশিনী ; মহাতমিস্রার দেবীর পুজা। ডাকাত দের যে বশ মানাতে হবে।

গ্রাম নাম কথা

আঞ্চলিক ইতিহাস : কাঁকসা জংগল মহল। বিদবিহার : নাম কথা প্রণব ভট্টাচার্য বিদবিহার। একটি গ্রামের নাম। কয়েক ঘর মানুষের একটি ছোট্ট গ্রাম। আবার এই নামেই গোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম ও। বিদবিহার নাম টি এসেছে বৌদ্ধবিহার থেকে। অপভ্রংশ। অর্থাৎ একদিন এখানে বৌদ্ধবিহার ছিল। যা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য পণ্ডিত এরা বলেন ই বাংলার ইতিহাস আছে বাংলার মাটির নীচে। উত্তরে অজয়। ওপারে উত্তর রাঢ়।বজ্রভুমি। বজ্জভুমি। একদা দূর্গম লাঢ় এর জংগলাকীর্ণ রুক্ষ পথহীন পথে হেঁটেছিলেন মহাবীর স্বামী। তাঁর জৈন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। নানা ভাবে তিনি স্থানীয় রেঢ়ো মানুষ দের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। পরে কিন্তু রাঢ়দেশ জৈন দের কাছে পুণ্য ভুমি তে পরিণত হয়। রাঢ়দেশ এ জৈন ধর্ম বিকাশ লাভ করে। কথিত আছে বুদ্ধদেব বীরভূম এর উপর দিয়ে পুণ্ড্রনগর এ গিয়েছিলেন। বাংলার বিখ্যাত পাল রাজাদের সময়ে সহজযানী বৌদ্ধধর্ম রাঢ়দেশে যথেষ্ট বিস্তার লাভ করে। সাধারণ মানুষ জাতপাত হীন এই ধর্মে আকৃষ্ট হয়। প্রাচীন তন্ত্র ও বৌদ্ধতন্ত্র তখন মিলেমিশে গেছে।নানা বৌদ্ধ দেবদেবী র মূর্তি পূজিত হচ্ছে নানা মঠ বিহার স্তুপে। রাজহাট ; ঠাকুরানী বাজার ; দণ্ডেশ্বর; এসব নামে সেই যুগের প্রভাব আছে। নানা ভাঙ্গা দেব দেবী র মূর্তি একসময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। গাছতলা য় পথের ধারে। সংরক্ষণ হয়নি। প্রত্ন চোরে রা সব চুরি করে নিয়ে গেছে।

নাম কথা

আঞ্চলিক ইতিহাস : কাঁকসা জংগল মহল। বিদবিহার : নাম কথা প্রণব ভট্টাচার্য বিদবিহার। একটি গ্রামের নাম। কয়েক ঘর মানুষের একটি ছোট্ট গ্রাম। আবার এই নামেই গোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম ও। বিদবিহার নাম টি এসেছে বৌদ্ধবিহার থেকে। অপভ্রংশ। অর্থাৎ একদিন এখানে বৌদ্ধবিহার ছিল। যা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য পণ্ডিত এরা বলেন ই বাংলার ইতিহাস আছে বাংলার মাটির নীচে। উত্তরে অজয়। ওপারে উত্তর রাঢ়।বজ্রভুমি। বজ্জভুমি। একদা দূর্গম লাঢ় এর জংগলাকীর্ণ রুক্ষ পথহীন পথে হেঁটেছিলেন মহাবীর স্বামী। তাঁর জৈন ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। নানা ভাবে তিনি স্থানীয় রেঢ়ো মানুষ দের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। পরে কিন্তু রাঢ়দেশ জৈন দের কাছে পুণ্য ভুমি তে পরিণত হয়। রাঢ়দেশ এ জৈন ধর্ম বিকাশ লাভ করে। কথিত আছে বুদ্ধদেব বীরভূম এর উপর দিয়ে পুণ্ড্রনগর এ গিয়েছিলেন। বাংলার বিখ্যাত পাল রাজাদের সময়ে সহজযানী বৌদ্ধধর্ম রাঢ়দেশে যথেষ্ট বিস্তার লাভ করে। সাধারণ মানুষ জাতপাত হীন এই ধর্মে আকৃষ্ট হয়। প্রাচীন তন্ত্র ও বৌদ্ধতন্ত্র তখন মিলেমিশে গেছে।নানা বৌদ্ধ দেবদেবী র মূর্তি পূজিত হচ্ছে নানা মঠ বিহার স্তুপে। রাজহাট ; ঠাকুরানী বাজার ; দণ্ডেশ্বর; এসব নামে সেই যুগের প্রভাব আছে। নানা ভাঙ্গা দেব দেবী র মূর্তি একসময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। গাছতলা য় পথের ধারে। সংরক্ষণ হয়নি। প্রত্ন চোরে রা সব চুরি করে নিয়ে গেছে।

বিখ্যাত সেই যাত্রার আসর

রূপাই চণ্ডী তলা : যাত্রাপালা র আসর --------------------------------------------প্রণব ভট্টাচার্য নামটা কি চেনা চেনা। হয়তো বা। কেন না এই রকম চণ্ডী তলা দিয়ে নাম তো আর ও আছে কি না। যাইহোক এই চণ্ডী তলা বসুধা মৌজা য় ; থানা- কাঁকসা ; প: বর্ধমান। এখানে দেবী চণ্ডী - রূপাইচণ্ডী। তন্ত্রমতে তাঁর পূজা। নিত্যপূজা ছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি তে তাঁর বার্ষিকী বিশেষ পূজা অনুষ্ঠান। বৈশাখের ৩ তারিখ থেকে কলকাতার যাত্রাদল এর পালাগান। এলাকার মানুষ সারা বছরঅপেক্ষায় থাকেন। এই যাত্রা দেখার জন্যে।চারদিক থেকে মানুষজন ছুটে আসেন।কমপক্ষে দু তিন হাজার মানুষ। চারদিকে মানুষ আর মানুষ।রূপাই দহের পাড়ে ; ঝোপের ধারে।এমন কি গাছের উপরে ও। তখন তো ঘন জংগল। বড় বড় অর্জুনগাছ। পলাশের ঝোপ।আরো কত গাছপালা। এই এখানের যাত্রা পালাগানের আসর বসছে- সে তো অনেকদিন থেকে ই। প্রায় একশ বছর হতে চলল। কে না এসেছেন এখানে? নামী কোন না দল। প্রায় সবাই। রথী - মহারথী সব যাত্রা অভিনেতা অভিনেত্রী রা। কত বড় বড় সব নাম।ছোট ফণী ; বড় ভোলা; ছোট ভোলা; পান্না চক্রবর্তী ; গুরুপদ ঘোষ; দ্বিজু ভাওয়াল;শেখর গাঙ্গুলী; জ্যোৎস্না দত্ত; গুরুদাস ধাড়া; রাখাল সিংহ;নির্মল মুখার্জী ইত্যাদি ইত্যাদি সব নাম। পৌরাণিক পালা ই বেশী হত। পরে এল সামাজিক পালাগান।ঐতিহাসিক পালা ও হয়েছে অনেক। প্রাচীন তম সত্যম্বর অপেরা র বাঁধা আসর। অত মানুষ। পেট্রোম্যাক্স; হ্যাজাক এর আলো।তখন মাইক নাই। খোলা গলা য় গান। মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ এর মতো শুনেছে- দেখেছে।। রাত এগারো টায় শুরু হয়ে সেই ভোর রাত। সারা রাতের আনন্দ অনুষ্ঠান। এলাকার এই ঐতিহ্য এখন ও বেঁচে আছে। তবে সেই যাত্রা আর নেই।সব দিক দিয়েই তার মান নেমে গেছে। _-----+-------------------------------+-----
সিং দরজা ----------------- প্রণব ভট্টাচার্য অনেক জমি জায়গার মালিক সম্পন্ন গ্রামীণ গৃহস্থ পরিবার গুলির গৃহসমষ্টির মূল দরজা দেখেই বোঝা যেত তাদের আভিজাত্য। রাজবাড়ি র সিংহদুয়ার ই তাঁদের প্রেরণা। রাজা না হোক ছোট ;বড় ;মাঝারি ;জমিদার তো বটে। মনে তো গর্ব আছেই। হ্যাঁ - মেজাজ টা ও। তাই ঠাকুর দালান ; ঘরবাড়ি সমেত সীমানা প্রাচীরের মাঝামাঝি সিংদরজা। পশুরাজ সিংহ। সর্বময় কর্তৃত্ব তার। দরজার উপরে দুপাশে তার মূর্তি না থাকলে কি নিজেদের চেনানো যায়! অন্যরকম ও যে হতনা তা নয়। মূল পরিবার ভাঙতে ভাঙতে ; জমি জায়গা হারাতে হারাতে সেই সব পরিবার গুলির এখন জীর্ণ দশা। পুরোনো স্মৃতি ই সম্বল। ঐ দরজার দিকে তাকালে - অনেক কিছুই মনে ভিড় করে আসে তো বটে ই। -------------------_-------------------------------

আরও কতকি

আর কি হারালো -------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য গাঁ ঘরে রাস্তা বলতে তো কিছু ছিলনা। সে তো এই চল্লিশ বছর আগে মাত্র। ছিল কুলি। তাই পথ। আবার বর্ষা য় জল যাবার চওড়া নালা। যাই হোক - তাই সই।তাতেই গাঁয়ের লোকের চলে যেত। আর না গিয়েই বা উপায় কি। গাঁয়ের ভিতরে উঁচু পাকা রাস্তা আর বানাচ্ছে কে। অতএব গরমে ধুলো ওড়া। আর বর্ষায় কাদা মাখা পা। তাই এক বালতি জল পা ধোয়ার জন্য দরজার পাশে নামানো ই থাকতো। হাঁ তবে গাঁয়ের ছেলেদের একটা ভাল খেলা হত বর্ষার সময়ে।কুলি দিয়ে অবিরল জলের স্রোত। আর পাশের শিব মন্দির এর উঁচু দাওয়া থেকে সেই জলে ঝাঁপ। পুকুর গোড়ে ভাসিয়ে জল। মাছ ও ভেসে যাচ্ছে। ওস্তাদ রা ছেড়ে দেবে। ধরছে। মাথায় চটের বস্তার টোপা চাপিয়ে মেয়েরা কুলি থেকেই জল নিয়ে যাচ্ছে। যাই হোক এ নিয়েই গাঁ ছিল। বড় রাস্তা বা কুলি র ধারে মানে ঠিক মোড়ের উপরে সম্পন্ন গৃহস্থ বাড়ি। মূল ঘর রাস্তার দিকে পিছন করে হলেও রাস্তার দিকে মুখ করে একটা বৈঠক খানা ঘর থাকতো। সামনে বারান্দা।হয়তো দু দিকে বসার জন্য বান্ধানো ধাপ। গল্প তো চাই। আড্ডা। পরচর্চা পরনিন্দা র মতো জমাটি বিষয় আরকি হতে পারে। অন্য গপ্পোও যে হতো না তা বলা যাবেনা। তাস পাশা ও হত। সন্ধ্যায় অনেকে ই গলা ভেজাতেন। হারমনিয়াম তবলা ও কোথাও কোথাও বেজে উঠত। সংগে কন্ঠসাধন। এই বৈঠক খানা গুলি ই ছিল গাঁয়ের গপ্পকথার উৎস কেন্দ্র। পরদিন সব আসর ই সব আসরের খবর নিত।খবর লেন দেন এর লোক ও ছিল ঠিকঠাক। ভালো খবরে তাদের একটু বেশী ডোজ পাওনা হতো। সারা গাঁ ই মোটামুটি সব আসরের খবরা খবর নিয়ে তারপর মেতে থাকত। এই ই ষোলআনা বিনোদন।