Showing posts with label কথা - সাতকাহন. Show all posts
Showing posts with label কথা - সাতকাহন. Show all posts

Friday, 2 August 2024

ঐ তো তোমার ঘর। কথা - সাতকাহন

।। ঐ তো তোমার ঘর।।  কথা সাতকাহন।

-  কি  ব্যাটা কে নিয়ে এলি না কি রে! 
- কই, দেখি, দেখি 
 
রাস্তার পাশেই উঁচু ভিতের পাকা বৈঠক খানা ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন এক বড়সড় চেহারার মধ্যবয়সী মহিলা।

- হ্যাঁ। 
বলেই একটা সরু গলির মতো প্রবেশ পথে ঘরে প্রবেশ।
এ ঘর বাবার নয়। জ্যাঠা দের। পাশেই কাকার পাকা বাড়ি।
তার পিছনে একেবারে পিছনে একধারে বাবার ঘর।
তাকে সবাই দেখছে। জ্যাঠাইমা তাকে তার মায়ের গল্প শোনালো। সে মানুষ গুলো কে দেখছিল।
সমবয়সী জ্যাঠতুতো দাদা র সাথে সহজেই বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
পরদিন ঘরের সামনের রাস্তা দিয়ে গ্রামের পশ্চিম দিকে।
এদিক টাই এসে তার খুব ভালো লাগলো। বিশাল দিঘী। সায়র। তার উত্তর দিকটা পাথর বাঁধানো। রাজাদের আমলের।
পাশাপাশি বেশ কয়েকটা পুকুর। লাল মোরামের রাস্তা চলে গেছে আর ও পশ্চিমে। দক্ষিণ দিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একটা
পাহাড়। পরে জেনেছে পঞ্চকোট। পশ্চিম দিকে বেশ কয়েকটি
ছোট পাহাড়। একটা পাহাড়ের মাথায় মন্দির দেখা যাচ্ছে।
ফুলবেড়িয়া। ওখানে না কি মেলা বসে পূজার সময়।
রাস্তার ধারে এক অশ্বত্থ গাছ। সেই গাছের নীচে দাঁড়িয়ে সে চারপাশ দেখতে লাগলো। এই দিকটা তার খুব ভালো লেগে গেল। মনে হল ঐ যে রাস্তা চলে গেছে উঁচু নীচু হয়ে - সেটা দিয়ে হেঁটে যায়। উঁচু চাতালের উপরে সাঁওতাল পাড়া।
সাইকেল নিয়ে একজন নেমে আসছে ঐ রাস্তা দিয়ে।
  পশ্চিম দিকে  শুঁড়ি পাড়া। তারা না কি  বড়লোক। পাশেই ধোপা পাড়া। সেই পাড়াতে একটা কুয়ো। একজন  মহিলা জল তুলছিল।হাতমুখ ধুয়ে , তার জল খেতে ইচ্ছে হল।
সঙ্গে আছে জ্যাঠতুতো দাদাভাই সাধন।  তাকে তো চেনে। আমি কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল আমার ভাই। কাকার ছেলে। প্রথম এসেছে।
- না ঠাকুর আমি জল দিতে পারবনা। আমার পাপ হবে।
সে ভাবতে লাগলো     কিসের পাপ! 
একটু জল দেবে মাত্র।
- চল ঘরে যাই। ঘরে গিয়ে খাবি।
রাতে বিছানায় শুয়ে সে ভাবতে লাগলো সেই যে এক চণ্ডালিনী বৌদ্ধ সাধুকে জল দিতে চায়নি,নীচু জাতের মেয়ে বলে,  সেই 
সেই মেয়ের হাত থেকেই তিনি জল খেয়েছিলেন। প্রথাও  ভেঙেছিলেন। 

 তাহলে কি সেইসব পুরনো প্রথা রয়েই  যাবে -
 চিত্র ঋণ ঃ  বিকাশ ভট্টাচার্য

Friday, 26 July 2024

কথা- সাতকাহন। সেই ছেলেটা ভেলভেলেটা


।।  সেই ছেলেটা  ভেলভেলেটা ।।  কথা সাতকাহন।

ছেলেটা কাঁদছে তো কাঁদছেই।
মা তো শুয়ে আছে ভিতরে র বারান্দায় এককোনে।
তার না আছে ক্ষমতা। বুকে দুধ নাই। বুকের কাছটিতে ছোট্ট পুঁচকে টা কে টেনে নেবার অধিকার ও নাই। ডাক্তার বাবুর নিষেধ। কোন রকমে বলে ' ও মা দ্যাখো, কাঁদছে খুব '।
রান্নাঘর থেকে দিদিমা এসে মুখে দুমুখ ওয়ালা কাঁচের মাইপোশ ধরিয়ে দেয়। ঘরের গোরুর দুধ। চুষতে চুষতে আবার ঘুমিয়ে যায়।
  গরীব মানুষ দের ছোট্ট গাঁ। একটু বড় হলে, অনেকে তুলে নিয়ে যায়। নিজের বুকের দুধ ও খাওয়ায় কেউ কেউ। যেমন
তুলসী। জাতে বাউরি। নিজের ছেলেকে খাইয়েও, এ ছেলেকে
খাওয়ায়। দিদিমা বলে নিয়ে যা। নিয়ে যা। তোদের কোলেই বড় হোক।
এ ছেলে বাঁচতে কি না,  বড় হবে কিনা সে দুশ্চিন্তা দাদু দিদিমা র মনে পাক খায় অবিরত। মেয়ে যে বাঁচবে না তা যেন মনে গেঁথে গেছে। চিকিৎসা!  আর চিকিৎসা। কম তো হলনা।
ইলামবাজার থেকে কালী বাবু আসেন। ইঞ্জেকশন দেন।
এই ইঞ্জেকশন কিনতে কিনতেই প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।
এত দাম। ফাঁকা শিশি গুলো কেও যেন ফেলে দিতে পারা যায়না।
গোয়াল ঘরের মাচা থেকে একটা বেশ পুরনো ঢাকনা ওয়ালা
বেতের ঝুড়ি নামিয়ে পরিষ্কার করে, সেই মেয়ের চিকিৎসার যত শিশি, বোতল, ইঞ্জেকশন এর শিশি ছিল এক কোনে জড়ো করা  দাদু সব এই ঝুড়িতে রেখে দেয়।
---- এগুলো জমিয়ে কি হবে । ধুয়ে জল খাবে? 
--- দাদু কোন উত্তর দেয়না।
  বিকেলের রোদে দড়ির খাটিয়া টা বারান্দা থেকে উঠোনে বের
করে দেওয়া হয়। সকাল বিকেলের রোদ গায়ে মাখতে বলা হয়েছে। বুক পর্যন্ত একটা চাদর ঢাকা।
সেই খাট থেকে মেয়ে আকাশ দেখে। ঘরের পিছনে লম্বা তালগাছ দেখে।উঠোনের সজনে গাছে  কাঠবেড়ালী গুলো লেজ তুলে তুলে ওঠা নামা করছে। খেলছে। একদৃষ্টিতে সে  তাকিয়ে থাকে।
সামনের জয়ন্তী গাছটায় অনেক ফুল এসেছে। দুর্গাপূজার সময় অনেকে নিতে আসে। স্থলপদ্ম গাছটা ফুলে ফুলে ভরে গেছে।
আকাশে একফালি রাঙা মেঘ ভেসে যায়।
আখড়া থেকে মাতামা এসে মাথার কাছে একটা মোড়ায় বসে
বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ে।
---  আজ কি তিথি গো মাষ্টারবাবা?
   কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে  বলেন  পাঁজি দেখতে হবে।
সেই রোগগ্রস্ত মেয়ে বলে ওঠে  তিথি  বারে কি হবে গো মাতা!
অশ্লেষা, মঘা কিছু দেখার দরকার নাই "
  ---  কি হবে এসব দেখে
  বৈষ্ণবী মাতামা চুপ করে থাকেন
এক অজানা আশংকায় সারা উঠোনে জড়ো হয় এক
আশ্চর্য  নিস্তব্ধতা। একটা হিম বাতাসের স্রোত বয়ে যায়
দক্ষিণ থেকে উত্তরে। মাতামা হাতজোড় করে প্রণাম করেন।

আগের লেখাটি র লিঙ্ক।  বিধাতা পুরুষ।

https://www.facebook.com/share/p/ZeZWK9LufV1ptFwx/?mibextid=অফডক্নক
------------ ------------ ------------ ------------ ------------ ------------