Wednesday, 12 June 2019

সাতকাহনিয়ার দশহরা উৎসব

অজয় এখানে বাঁক নিয়েছে পশ্চিম থেকে উত্তরে। গাঁয়ের উত্তরে অজয়। গাঁয়ের নাম সাতকাহনিয়া। এখানকার দশহরা র ধূম জমজমাট। সে অনেক কাল আগে থেকেই। তখন নদী তে জল গড়াত।দু তিন ফুট জল।সে ছিল অন্য নদী। সে নদী আর নাই। ঠাকুর চান করাতেনদী যায়। সংগে সংগে ভক্তাদের দল। ধীবর দেয়াসী রা ঠাকুর কোলে করে নিয়ে যায়। ভর নামে তাদের। আরও কারো কারো। আর আমরা সবার আগে ছুটে ছুটে। খালি পায়ে। পায়ের তলা পুড়ে যায়। তো কি। গিয়েই জলে ঝাঁপ। নীলবাড়ি র কলাবাগানের ঘাট থেকে শিমুল তলার ঘাট পর্যন্ত। চি ৎ সাঁতার। জল ই টেনে নিয়ে যায়। আমরা গাঁয়ের ছেলে। পুকুরে চান। কমবয়েস থেকেই জল খেয়ে খেয়ে সাঁতার শিখেছি। আমাদের আর ভয় কি। এই রকম দু তিনবার। তবে মাঝে মাঝে নদী র পশ্চিম দিকে একবার আর একবার পুব দিকে তাকাতাম।কোন দিক থেকে যে মা গঙ্গা কুমীরের মতো হাঙ্গরের না মকরের পিঠে চেপে ভেসে আসবে। তারপর জল থেকে উঠে হালদার বাড়ি র বিরাট গামলায় চিঁড়ে প্রসাদ। মাঠে তখনও চলছে বটূ কোঁড়া ভোঁটা মাল ষষ্ঠী বাউরী দের দলের ষোট খেলা। তাল তাড়ির দম। গায়ে অসুরের শক্তি যেন। চারপাশে অনেক মানুষ। খেলা দেখছে। ওব্বো ওব্বো দিচ্ছে। ঠাকুরের নদী স্নান পর্ব প্রায় দু ঘণ্টার। বেলা গড়ালে নদী থেকে ফেরা। পথে নানা জায়গায় থামা। মনস্কামনা পূরণের জন্য পথের উপর কেউ হত্যে দিয়ে পড়ে আছে। সে মায়ের জবাব ভর এসেছে যে দেয়াসী র তার মুখ থেকে না শুনে পথ ই ছাড়েনা। আরও জোরে ঢাক ঢোল কাঁসর বাজে। ফুল পড়ে। তারপর সেই বৈরাগি বটতলায়। সেখানেই তো মেলা। বহু লোকের ভীড়। দু চারটে দোকান। এখানে বাণ ফুঁড়েছে একদল ভক্তা। তাদের তদারকি তদ্বির করছে ওস্তাদেরা। মূল মন্দিরের সামনে আটচালায় চলছে মনসা মঙ্গলের পালা গান। দ্বিজ বংশী দাস ; ক্ষেমানন্দ দের পদ। এখন বনকাটি গ্রামের সন্তোষ চক্রবর্তী আর তার দল ভালো গান করেন। আগে ডাঙ্গাল গ্রামের বৈরাগি দের দল গাইত। আগের রাত থেকে গান আরম্ভ হয়। কমপক্ষে বারো চৌদ্দ বা কোনবার তার ও বেশী ছাগ বলি হয়। অনেকের মানত থাকে। আশেপাশে র পাঁচ সাতটা গ্রাম থেকে মানুষ জন আসে।মেয়ে রাই যেন বেশি। মেলা তলা জমে ওঠে নানা পসরায়। একদিনের আয়োজন উৎসব পুজো। শেষ বিকেল পর্যন্ত চলে। রাতে সব ফাঁকা। আবার কখনও কখনও চেষ্টা হয়েছে দু দিনের পরব করার। যাত্রা গান। ফাংশান এসব করার। পয়সা র অভাব। গরীব মানুষের গাঁ। কে দেবে এত পয়সা। তবে এবার কমবয়সী ছেলেরা উদ্যোগ নিয়েছে। নানা গাঁ য়ে ঘুরে চাঁদা আদায় করেছে। কাল রাতে জলসা হবে। এবার বাড়তি ঢাক ঢোল আনিয়েছে। নারানপুর উদয়পুরের ঢাক মাজুরিয়া র ঢাক ঢোল এসেছে। অযোধ্যা গ্রামের বাগদী পাড়ার দক্ষ ছেলেরা বাণ ফোঁড়ার আয়োজন করেছে। আর এইসব মানুষ জনের আপ্যায়ন খাওয়া দাওয়া র দিক দেখতে তো লোক চাই। এমনি এমনি তো আর সব কিছু হয়ে যাবেনা। সে সব দেখছে মাধব মধু কেষ্ট বাউরী রা। আখড়ায় তার আয়েশ জমজমাট। ----------------৷ ৷ -------------------------------------

Sunday, 12 May 2019

বসুধা। বসুধা থেকে মিরাস মৌখিরা

বসুধা। আহা। কি সুন্দর মধুক্ষরা নাম।
কে কবে রেখেছিল। তা কি আজ আর বলা যায়। নামের উৎপত্তি কিভাবে। আন্দাজ করা যায়। বৌদ্ধ দেবী বসুধারা নাম থেকে আসতে পারে। কেননা একদিন এই অজয় অববাহিকায় তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের যথেষ্ট
প্রসার ঘটেছিলো। আবার ধর্ম্মমঙ্গলের অন্যতম এক কবি নরসিংহ বসুদের পৈতৃক
ভিটা ছিল এই গ্রামে। বসুধাম থেকে বসুধা।
অনেক ছড়ানো বিস্তৃত মৌজা এই লাট বসুধা। অজয়ের দক্ষিণ পাড় থেকেশুরু করে  একেবারে আউসগ্রামের জঙ্গলভূমি
পর্যন্ত। একদিন মাঝে তার বইত অজয়ের ই একটি জলধারা। বৃদ্ধ নদী। বেশ দহ ছিল সেই কালীদহ। পারাপার এর জন্য ছোট নৌকো চলত। চালাত চণ্ডালেরা। আবার শবদেহ দাহ ও করত। কাছে ই প্রাচীন শিব মন্দির। ওপারে ধর্মরাজ মন্দির। অনেক গুলি ছোট চারচালা শিব মন্দির ছিল।
কাছেই রূপাই চণ্ডী তলা। বিখ্যাত তার যাত্রা আসরের জন্য। একদিন ছিল ঘন অর্জুন পালাশের জঙ্গল। গালা বানাত লরি রা।
তারা খুব দুর্ধর্ষ ও ছিল শোনা যায়।
তখন এখানকার জঙ্গল ভূমিতে অনেক তান্ত্রিক ব্রহ্মচারীরা বিচরণ করেন। তাঁদের একজন বাবা দুলো রায়।
অনেকগুলো পাড়া। বাগুড়া। বাঘারায় নাম থেকে। কালু বীরের থান। সেখানে বেশ কয়েকটি জৈন এবং বৌদ্ধ ভগ্ন মূর্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। মেটে পাড়া।
জয়রাম নামের এক আদিবাসী নদীতীরে
নীল চাষ করে বেশ ধনী হয়েছিল।অনেক জমি জায়গা করেছিল। ওপার ইলামবাজার তখন নীল গালার বিখ্যাত গঞ্জ হয়ে উঠেছে। ইংরেজ দের সাথে তার ভালো সখ্য।
তার পরিবার বেশ ঘনিষ্ট হয়েছিল তাদের।
অজয়ের পলিমাটি দিয়ে গড়া। চাষের দারুন ক্ষেত্র। এখানকার সব্জী ছিল বিখ্যাত।
পূর্বপাড়ায় শাকদ্বীপি গ্রহবিপ্র দের পাড়া।
এঁরা বেশ প্রাচীন। এঁদের পরিবারের দুর্গাপূজার আয়োজন কমপক্ষে তিনশত বছর এর পুরনো। পূর্ব ঘোষ পাড়া। সেখানে ও আছেন কয়েক ঘর নিম্ন শ্রেণীর ব্রাহ্মণ। আর মেটে।  সদগোপদের ই প্রাধান্য।
এই পাড়া এবং অন্য পাড়াগুলি থেকে ও অনেক পরিবার বন্যা র ভয়ে উঠে উঁচু ডাঙ্গা জমিতে গিয়ে গ্রাম পত্তন করেন। গ্রামের নাম তাই ডাঙ্গাল। এখানকার সদগোপ ঘোষ বাবুরা একদিন যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন।
অনেক আদিবাসী মানুষ আছেন এখানে।
কোঁড়া ; মাহালী ; সাঁওতালরা। একদিন  চাষাবাদ এবং নীলকুঠীর কাজের জন্য এঁদের আনা হয়েছিল বা এসেছিলেন।
ডাঙ্গাল গ্রামের দু টি অংশ। একটি আদিবাসী
পাড়ার নাম রাজাপোতা ডাঙ্গা। ইতিহাস আছে তার। রূপাই চণ্ডী তলায় নবমী পুজার দিন ছাগ বলি দেওয়া হত। সদগোপ দের পক্ষ থেকে। আচার্য পদবীর ব্রাহ্মণ রা ছিলেন পুরোহিত। এঁদের আনানো হয়েছিল। পরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এর দায়িত্বে যায়।
ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সময় দশঘরার জমিদার রা বসুধা র জমিদারী কিনেছিলেন। তাঁদের ছিল কাছারী বাড়ি। সামনে ' রঙ বাগান '.।
এক সময় টোল শিক্ষায় বসুধা র খুব খ্যাতি ছিল। জ্যোতিষ চর্চা বা শিক্ষায় গ্রহবিপ্র গণৎকার ব্রাহ্মণ ভট্টাচার্য পরিবারের খুব নাম যশ খ্যাতি ছিল।
পশ্চিম পাড়া বা রূপুটে পাড়ার ঘোষ ; ভাণ্ডারী সদগোপ দের প্রতিপত্তি ছিল।
কামার ; কুমোর ; মাল ; কোঁড়া রা ও ছিলেন।
বসুধা র বিখ্যাত সব্জী গোরুর গাড়িতে করে যেত নানা হাটে। ইলামবাজার ; বোলপুর ; সগড়ভাঙ্গা র হাটে বাজারে।
অনেক অনেক কথা এই বসুধা - মিরাস এর। মিরাস কে চেনা যাচ্ছেনা। কবি নরসিংহ বসু র সময়ের নাম। আজকের মৌখিরা।
বসুধার একেবারে দক্ষিণে বিরাট বিল।তার পাড়ে হত ব্যাপক নীল চাষ। ছিল নীলকুঠি।
সেখানের জঙ্গলের নাম তাই নীলকুঠি র জঙ্গল। মৌখিরা কালিকাপুরের রায় জমিদার বাবুদের সাথে তাদের ওঠাবসা।
বিশাল ধনী জমিদার হয়ে উঠেছিলেন রায় বাবুরা। বসুধা থেকে মৌখিরা কালিকাপুর পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়ে তাদের দাপট ; কর্তৃত্ব। বিশাল বিশাল জমিদার বাড়ি ; সহ অনেক মন্দির তাঁরা নির্মান করিয়েছিলেন।
সে অনেক কথা। আলাদা পর্বে লিখব।
----------------৷৷৷৷৷৷৷  ------------------৷৷৷৷৷  -----

ফুল দিয়ে নাম আমার ঃ ফুলঝোড়

ফুল দিয়ে গ্রামের নাম তো এই বাংলা য় অনেক আছে। কিন্তু আমার যেমন প্রথমেই মনে আসে ফুলকুসুমা বা বাঁকুড়ার চলতি তে ফুলকুসমা র নাম; আবার পাথর বললেই পাথর প্রতিমার নাম।মনে গেঁথে আছে। প্রায় সবার ই। আমাদের আছে রাজকুসুম।আছে ফুলঝোড়। এই আমাদেরই কাঁকসা থানা এলাকার মধ্যে। নিশ্চয়ই ফুলঝোড়ের থেকে রাজ কুসুম বেশ মিষ্টি শুনতে। আজ ফুলঝোর এর কথা।জঙ্গল ঘেরা গ্রাম।কাঁটাবেড়ে র বিখ্যাত জঙ্গলের গায়ে গা লাগিয়ে। কাঁটাবেড়ে বা ভাল কথায় কাঁটা বেড়িয়া। তার কথা আলাদা করে বলতে হবে। সে অনেক কথা। আজ ফুলঝোড়।ঝোড় মানে ঝোঁপ। বুনো ফুলের ঝোপঝাড়ে ঘেরা গ্রাম। ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের গ্রাম দেবী ছিলেন দেবী ফুলেশ্বরী। এই দেখুন আবার ফুলেশ্বের এর কথা মনে আসে। ফুলেশ্বরী নামে একটি সিনেমা র কথা ও মনে আসে। তরুন বাবুর মিষ্টি সিনেমা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর মিষ্টি মিষ্টি গান। যাই হোক সে অন্য কথা। এখন এই গ্রামে আর সেই অন্য অতীত এর গ্রাম দেবী ফুলেশ্বরী র ধাতু মূর্তি নাই। কবেই চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু একদিন ছিল। তবে কবে কার হাতে কখন তাঁর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তা জানা যায়নি। মূর্তি টি কিন্তু ছিল অত্যন্ত বৈশিষ্ট্য পূর্ণ। ভয়ংকরী ; অষ্টভুজা। উদরদেশ তাঁর গভীর। যেন ক্ষুধার্ত। তিনি কি দুর্গা? না কি বৌদ্ধ প্রভাবিত কোন দেবী। কেননা একদিন এই বিদবিহার অঞ্চলে তথা সমগ্র এলাকায় ছড়িয়েছিল তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্ম। সে প্রায় হাজার বছর আগের কথা। অনেক অনেক কথা। পরে হবে। ( কৃতজ্ঞতা - গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন গোপ)

Sunday, 5 August 2018

দুই প্রাচীন শিব

দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। ১৭৪০ সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )। জামদহ। দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। ১৭৪০ সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )

Friday, 27 July 2018

দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। ১৭৪০ সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )। জামদহ। দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। ১৭৪০ সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )

বিদবিহারের দুই শিব

দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। ১৭৪০ সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )। জামদহ। দণ্ডেশ্বর আর ফুল্লেশ্বর শিব ---------------------------------- প্রণব ভট্টাচার্য সেদিন লিখেছিলাম ফুলঝোর গ্রামের দেবী ফুলেশ্বরী বা ফুল্লেশ্বরী র কথা। একদিন ধাতু মূর্তি ছিল। সে এক প্রাচীন মূর্তি। অষ্টভূজা ; ভয়াল দর্শনা।উদর দেশ গভীর। যেন বা দেবী ক্ষুধার্ত। রক্তপিপাসা লোলুপ। গ্রামবাসী প্রবীণ শিক্ষক চন্দ্রমোহন দা তাঁর স্মৃতি থেকে মূর্তি টি সম্পর্কে যতটা বলেছিলেন। আমি তাই বলেছি। এই গ্রামের ফুল্লেশ্বর শিব ও প্রাচীন। মাকড়া পাথরের তৈরী সুন্দর মন্দির ছিল। এখন ভেঙ্গে গেছে। পুরনো পাথরে র চাতাল আছে। পাথরের গায়ে কারুকাজ ছিল। বোঝা যায়। কিছু লিপি ও ছিল। পড়া যায়নি। কাছেই এক দিঘী। সতীঘাটা। সেখানে নাকি সতীদাহ হয়েছিল। দণ্ডেশ্বর শিব লিঙ্গ ভূ উত্থিত। তিনি স্বয়ম্ভু। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর উপর নূতন মন্দির নির্মাণ করানো হয়েছে। দণ্ডেশ্বর একটি প্রাচীন গ্রাম। অতীত দিনের প্রাণ চঞ্চল এক জনপদ। রাজহাট থেকে শুরু করে ঠাকুরানী বাজার পর্যন্ত জমজমাট। এই দুই শিবের ভাব ভালোবাসা খুব। চৈত্র সংক্রান্তির সময় দণ্ডেশ্বর থেকে বাণেশ্বর যান ফুল্লেশ্বরে। রাজহাটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার ( মোড়ল নামে গ্রাম্য পরিচিতি)এই দুই শিব ঠাকুরের সেবাইত। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার নাচন গ্রামের বিখ্যাত পরিবারের ই অংশ। এক শাখা এখানে এসে জমিদারী পত্তন করেন। বর্ধমানে র রাজা চিত্রসেন ১৭৪০-৪৪ সাল নাগাদ ' সেন পাহাড়ি ' পরগনা পুনর্গঠিত করেন। সেই সময় কালের ই ঘটনা। এখনকার কাঁকসা থানা এলাকা ই সেই পরগণা - সেন পাহাড়ী'। সমগ্র গোয়ালাভূম এর জমিদারী র অধিকার রাজা চিত্রসেন প্রাপ্ত হন দিল্লির বাদশাহ মহম্মদ শাহ এর নিজামত থেকে। সালে। তারপর সেনপাহাড়ী পরগনা য় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা র লক্ষে নানা ভাবে চেষ্টা চালান।সুরক্ষা র নানা ব্যবস্থা করেন। ' গড় জঙ্গলের ' মধ্যে প্রাচীন গড় এর ভিত্তির উপরে ' কেল্লা' তৈরি করেন। কামান এনে বসান। সীমান্ত গ্রাম গুলির নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করেন। ঘোড়সওয়ার সৈনিক আনেন।পাহারার জন্য। জঙ্গলের মধ্যে মধ্যে ছিল ঘোড়দৌড় এর মাঠ। হাট বসান। মন্দির তৈরি করান। পুকুর সংস্কারের দায়িত্ব দেন স্থানীয় তালুকদার দের। সেই সময় উদ্যোগী দক্ষ সম্পন্ন ব্যক্তি গন কে বর্ধমান রাজ দরবার থেকে নূতন জমিদারি পত্তনের জন্য নিযুক্ত করা হয়। সেই সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে এই এলাকার অনেক ইতিহাস। ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ ------------------------------ প্রণব ভট্টাচার্য। ( তথ্য সহায়তা - স্নেহ ভাজন অনুজপ্রতিম শিক্ষক তরুণ কুমার ব্যানার্জি )

Monday, 23 July 2018

ঠাকুরাণীবাজার

সে যে কোন ঠাকুর আর ঠাকুরানী তা তো জানিনা।কে যে জানে। মাত্র কয়েকটি ঘর। তাও তার নাম ঠাকুরানী বাজার। বুঝুন মজা। মৌজা নাম ও তাই। হয়তো ছিল একদিন। হয়তো নয়। ছিল।ছিল একদিন। তো সে কত দিন আগে। হতে পারে তিন শো ; পাঁচ সাত বা হাজার বছর আগের কথা। পাশের জামদহ গ্রামের মেয়ে চিন্তামণি। অজয় সাঁতরে বিল্বমঙ্গল আসছেন তাঁর কাছে। তাঁর প্রেমে বি ভোর কবি। লিখছেন শ্রী কৃষ্ণকর্ণামৃত। কোন রাজা যে হাট বসালেন গ্রামের পূবের বিশাল ডাঙ্গায়। কে জানে। গ্রামের নাম রাজ হাট। প্রাচীন শিবমন্দির। শিব ঠাকুরের নাম টি মজার। দণ্ডেশ্বর। না কি মূর্তি ছিল একসময়। দণ্ডায়মান। জৈন কিম্বা বৌদ্ধ প্রভাব। হ্যাঁ। ছিল এক প্রাচীন লিপি তে লেখা এক ফলক। সে সব থাকা তো সোজা নয়। নাই ও। প্রত্নচোরেরা কবে ই নিয়ে পালিয়েছে। রাজহাট হল। তো রাণী হাট। হ্যাঁ। তাও আছে। কোন রাজা ; কোন রানী তা কেউ জানেন না। তবে ঐযে নাম। সেখানেই অনেক গল্প বোনা আছে।খুঁজতে হবে। খুঁজছি। উপাদান নাই। আর রাজহাট এর জমিদার মোড়ল দের কি দাপট। এঁরা বাড়ুজ্জে বামুন। তেমনই তাদের সাকরেদ হাঁড়ি রা। সাঙ্ঘাতিক। বড় বড় সব ডাকাত সর্দার। মানুষ কাটতে ও কোন দ্বিধা নাই। বহু পুরনো পুলিশ রেকর্ড তাই বলছে। বিদবিহার। বৌদ্ধ বিহার এর অপভ্রংশ। তবে কোথায় ছিল সে বিহার তা এখনো কেউ খুঁজে দেখেনি। বাঙ্গলার ইতিহাস বাঙ্গলার মাটির নীচে ই থেকে যাবে। কার দায় পড়েছে তাকে খোঁজার। কত কথা। কত কাহিনী। সব মাটির ই তো গল্প আছে। ইতিহাস আছে। কাঞ্চন পুর ; শশী পুর; বিনোদপুর; বাসুদেবপুর; ইঁটেডাঙ্গাল ; সন্ধিপুর; দুবরাজপুর ; বেতা; শিবপুর ; বিষ্টুপুর এ মাটির সব গ্রামের পথে ঘাটে নালা য় ; পুকুরের নামে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। তানা হলে পুকুরের নাম হয় ' সন্ধান'? ----------------------------_----------- ------ প্রণব ভট্টাচার্য। ৷৷৷৷৷. ।।।।।।।।।।। ২১/৭/১৮ ( আমার ব্লগ টি খুলে পড়ুন matirpradip.blogspot. com)